আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউরোপ ভ্রমণের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন আয়ারল্যান্ডের মওরিন স্লাউ (৫৮)। কিন্তু পরিবারের অজান্তেই তিনি গোপনে যান সুইজারল্যান্ডে, যেখানে আত্মহত্যার মাধ্যমে জীবন শেষ করার আয়োজন করেন। এই প্রক্রিয়ায় খরচ করেন প্রায় ২৬ লাখ টাকা (২১,৪০০ ডলার)।
গত ৮ জুলাই লিথুয়ানিয়া যাওয়ার কথা বলে বের হলেও বাস্তবে তিনি পাড়ি জমান সুইজারল্যান্ডে। সেখানেই পেগাসোস নামের একটি সংগঠনের সহায়তায় স্বেচ্ছামৃত্যু কার্যকর হয়। পরদিন তার পরিবার হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পায়— মওরিন আর বেঁচে নেই।
১৯৪২ সাল থেকে সুইজারল্যান্ডে স্বেচ্ছায় মৃত্যুতে সহায়তা বৈধ হলেও ইউথানেশিয়া নিষিদ্ধ। এখানে রোগী নিজেই ওষুধ সেবনের মাধ্যমে মৃত্যুর পথ বেছে নেন।
মওরিনের পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, সংগঠনটি তাদের না জানিয়েই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। ইতোমধ্যে তার ভাই, যুক্তরাজ্যের আইনজীবী ফিলিপ স্লাউ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চেয়ে আবেদন করেছেন।
প্রাণবন্ত ও বুদ্ধিমতী হিসেবে পরিচিত মওরিন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন। দুই বোনকে হারানোর পর আরও ভেঙে পড়েন তিনি। যদিও পরিবারের দাবি, তিনি মরণব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন না, এখনও তার জীবনের অনেকটা বাকি ছিল।
আগস্টে তার অস্থি দেশে ফেরত আসে এবং মাসের শেষে দুই বোনের পাশে সমাহিত করা হয়। মওরিনের মেয়ে মেগান বলেন, ‘আমার মা প্রাণবন্ত ছিলেন। হ্যাঁ, তিনি কষ্টে ছিলেন, তবে সেটা এতটা গভীর ছিল না যে জীবন শেষ করে দিতে হবে।’