আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চল শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টিতে সক্ষম ফল্ট লাইনের উপস্থিতি এই অঞ্চলগুলোকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
রাজধানীর Dhaka Reporters Unity-তে আয়োজিত ‘ভূমিকম্প: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে এ উদ্বেগ তুলে ধরা হয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশে ৭ বা তার কাছাকাছি মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার মতো ফল্ট রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ও পূর্বাঞ্চল বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তবে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা বাড়ালে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে ভবন নির্মাণে সঠিক বিল্ডিং কোড মেনে চলা। কিন্তু বাস্তবে আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ নেই বলেও তারা উল্লেখ করেন।
Bangladesh University of Engineering and Technology-এর স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. খন্দকার সাব্বির আহমেদ বলেন, বিল্ডিং কোড ঠিকভাবে মানা হলে সেটিই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হয়ে উঠতে পারে। তিনি আরও জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন ভূমিকম্পের পূর্বাভাস সম্পর্কেও গবেষণা এগোচ্ছে।
অন্যদিকে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারি মনে করেন, ভবন নির্মাণে শুধুমাত্র Rajdhani Unnayan Kartripakkha-এর ওপর নির্ভর না করে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে নির্মাণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মান বজায় রাখা সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রমে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, তার তুলনায় নিরাপদ ভবন নির্মাণে বিনিয়োগ কম। এই প্রবণতা বদলাতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যাবে।
তারা আরও বলেন, ভূমিকম্পের সময় কোথায় অবস্থান করা উচিত, কীভাবে নিরাপদ থাকা যায়, এসব বিষয়ে সাধারণ মানুষকে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।