আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী নদী-নালা ও খাল খনন উদ্যোগ শুরু হয়েছে। সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
স্থানীয় এলাকায় সকাল থেকেই মানুষের ভিড় দেখা যায়। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ সবাই রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগত জানান। বহু বছর পর খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
এই কর্মসূচির সঙ্গে অতীতের একটি স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। প্রায় পাঁচ দশক আগে, ১৯৭৭ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল নিয়ে একই এলাকার সাহাপাড়া খাল খননের কাজ শুরু করেছিলেন। স্থানীয় প্রবীণরা জানান, তখন মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নিয়ে খাল কাটার কাজে যুক্ত হয়েছিল। এবার সেই ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় নতুন করে খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রায় ১২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হয়। একই সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেশের ৫৪টি জেলায় খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রমও চালু করা হয়।
সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে অভ্যর্থনা জানান। সেখান থেকে তিনি সড়কপথে দিনাজপুরের বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় যান। পথে বিভিন্ন স্থানে মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানাতে জড়ো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে পড়ায় জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশনের সমস্যা দেখা দিত। খাল পুনঃখনন হলে বর্ষাকালে পানি চলাচল সহজ হবে এবং এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে যাবে।
এই খালটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা পুনর্ভবা নদীর সঙ্গে যুক্ত। নদীর পানি ঠাকুরগাঁও হয়ে দিনাজপুরে প্রবেশ করে এবং পরে মহানন্দা নদীতে গিয়ে মিশে যায়। খাল পুনঃখননের ফলে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে, মাছ চাষের সুযোগ তৈরি হবে এবং খালনির্ভর স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানান, খালে পানি থাকলে মাছ চাষ করা সম্ভব হবে এবং দুই পাড়ে গাছ লাগানো হলে পরিবেশও সুন্দর হবে। অনেকেই স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননের কাজে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ শুধু খাল পুনঃখননের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।