আওয়ার টাইমস নিউজ।
স্পোর্টস ডেস্ক: ইউরোপের ফুটবল আকাশে উড়ল লাল-সবুজের পতাকা। হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির উচ্ছ্বাস আর ভালোবাসার দিনে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ফিফা প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইউরোপের মাটিতে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল হামজা চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়া ও সতীর্থরা।
সেরাভেলের সান মারিনো স্টেডিয়াম যেন পরিণত হয়েছিল ছোট্ট এক বাংলাদেশে। গ্যালারিজুড়ে ছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের সরব উপস্থিতি। লাল-সবুজের পতাকা আর সমর্থকদের গর্জনে মুখর ছিল পুরো স্টেডিয়াম।
নতুন কোচ টমাস ডুলির অধীনে এটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ। আর প্রথম ম্যাচেই জয়ের উপহার দিয়ে সমর্থকদের হৃদয় জয় করলেন তিনি। ৪-৩-৩ ফরমেশনে মাঠে নামা বাংলাদেশ শুরুতে কিছুটা চাপে থাকলেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়।
ম্যাচের ১৯ মিনিটে শেখ মোরছালিনের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন তপু বর্মণ। গোলের পর গ্যালারিতে শুরু হয় উল্লাসের ঝড়।
তবে ৩১ মিনিটে স্বাগতিক সান মারিনো সমতায় ফেরে। নিকোলাস জিয়াকোপেটির গোলে ম্যাচে ফিরে আসে তারা। এরপর দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়।
দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক পরিবর্তন এনে আক্রমণের ধার আরও বাড়ান কোচ ডুলি। মাঠে নামেন শমিত সোম, জায়ান আহমেদ, বিশ্বনাথ ঘোষ, ফাহামিদুল ইসলাম ও কাজেম শাহ। পরিবর্তনের সুফলও পায় বাংলাদেশ।
ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই আসে জয়ের মুহূর্ত। ৮৬ মিনিটে হামজা চৌধুরীর নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে গোলমুখে বল পাঠান বিশ্বনাথ ঘোষ। সেই বলেই মাথা ছুঁইয়ে জালে জড়ান তপু বর্মণ। নিজের দ্বিতীয় গোল করে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক বনে যান এই ডিফেন্ডার।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠেন খেলোয়াড় ও সমর্থকরা। ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে এটি এক স্মরণীয় জয় হয়ে থাকবে।
এর আগে ২০০১ সালে ইউরোপে খেলা দুই ম্যাচেই পরাজয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল বাংলাদেশের। দীর্ঘ ২৫ বছর পর সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে অবশেষে ইউরোপ জয় করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশ ২-১ সান মারিনো ⚽ তপু বর্মণ (১৯', ৮৬') ⚽ নিকোলাস জিয়াকোপেটি (৩১')