আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার কূটনৈতিক অচলাবস্থার মাঝেই এক নতুন ও গভীর রহস্যের দানা বেঁধেছে। পর্দার আড়ালে বিশ্বরাজনীতির শীর্ষনেতারা এমন কিছু গোপন তৎপরতা চালাচ্ছেন, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে যাচ্ছে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে। একদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সেই শত্রুকে হাঁটু গেড়ে বসানোর রহস্যময় ও অনড় বার্তা, অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের নীতি-নির্ধারকদের অভ্যন্তরীণ ফোনালাপ-সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এক মহা রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশের কূটনৈতিক মিশন ও আন্তর্জাতিক মহলের অভ্যন্তরীণ একাধিক জরুরি ফোনালাপের সূত্র ধরে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, ইরান সংকট এবং জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় পরাশক্তিগুলোর শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে দফায় দফায় অত্যন্ত গোপনীয় ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সংলাপে কী আলোচনা হয়েছে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও, লিক হওয়া কিছু কূটনৈতিক বার্তা ইঙ্গিত করছে যে খুব শিগগিরই বিশ্বমঞ্চে বড় কোনো কৌশলগত পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক চীন সফরের ব্যর্থতা এবং বেইজিংয়ের অনড় অবস্থানের পর, এই গোপন ফোনালাপগুলো আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র কৌতূহল ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তেহরানের অনড় অবস্থানের কারণে সৃষ্ট বিশ্ববাজারের অস্থিরতা কাটাতে পর্দার আড়ালে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত জনসমক্ষে কোনো সমঝোতা না হলে বিশ্বনেতারা নেপথ্যে এই ধরনের রুদ্ধদ্বার যোগাযোগ বা ফোনালাপের আশ্রয় নেন। খামেনির দেওয়া সেই কড়া হুঁশিয়ারি বার্তার পর পশ্চিমা বিশ্ব যেভাবে নড়েচড়ে বসেছে, তাতে এই গোপন ফোনালাপগুলোর গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে সীমান্তে যুদ্ধের দামামা, অন্যদিকে রুদ্ধদ্বার কক্ষে বা ফোনের অপর প্রান্তে বিশ্বনেতাদের রহস্যময় এই তৎপরতা-সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়া থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের পুরো সমীকরণ এখন এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে। আওয়ার টাইমস নিউজের হাতে আসা আন্তর্জাতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই ফোনালাপগুলোর আসল উদ্দেশ্য এবং এর প্রভাব বিশ্ববাসীর সামনে পরিষ্কার হতে পারে। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে এই গোপন কূটনীতির চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে, যা নির্ধারণ করবে আগামীর বৈশ্বিক শান্তির ভবিষ্যৎ।