
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়ায় বাশার আল আসাদ দেশ ত্যাগ করার পর থেকে দেশটিতে নতুন করে সংঘাতের সূচনা হয়েছে। যদিও এই উত্তেজনা প্রত্যাশিত ছিল না, তবুও এটি অপ্রত্যাশিতও ছিল না। আসাদ এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে পালিয়ে গেলেও, তাদের অনুগত অনেক অস্ত্রধারী এখনও দেশে রয়ে গেছে, যারা সিরিয়ার পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন সংঘাত শুরু করতে চাচ্ছে।
বিশেষ করে, লাতাকিয়া শহর, যা শিয়া আলাভি সম্প্রদায়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, সেখানে আসাদপন্থি মিলিশিয়া ও হায়াত তাহরির আশ-শাম (এইচটিএস)-এর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। আসাদ পরিবারের সদস্যরা এই শিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করতেন, তবে তাদের সংখ্যা সিরিয়ায় খুব বেশি নয়। ১৯৭০ এর দশকের শুরুর দিকে হাফিজ আল আসাদ ক্ষমতায় আসার পর থেকে তারা প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। বর্তমানে আসাদপন্থিরা তাদের অবস্থান শক্তিশালী করতে এইচটিএস-এর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
এমন পরিস্থিতিতে, অনেকেই মনে করছেন যে ইরান আসাদের পতনকে একটি বড় কূটনৈতিক ক্ষতি হিসেবে দেখছে এবং তাদের সম্ভবত কিছু ভূমিকা থাকতে পারে। যদিও এটা এখনো স্পষ্ট নয়, ইরান আসলেই সক্রিয়ভাবে কিছু করছে কিনা।
৭-৮ মার্চ তারিখে সিরিয়ার তারতুস শহরে আসাদপন্থি মিলিশিয়া এবং এইচটিএস-এর মধ্যে এক মারাত্মক সংঘর্ষ ঘটে, যার ফলে ৭০০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। এই সংঘর্ষে শহরের রাস্তাগুলো রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং এক ভয়াবহ রক্তপাতের ঘটনা ঘটে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই রক্তপাতের পর সিরিয়ায় নতুন করে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ আসাদের অনুগতদের মধ্যে জনসমর্থন কম। তাদের ওপর জনগণের সমর্থন না থাকায়, সহিংসতার তীব্রতা খুব বেশি বাড়বে বলে মনে হচ্ছে না।
হায়াত তাহরির আশ-শাম (এইচটিএস), একটি আলকায়েদার সঙ্গে সম্পর্কিত সংগঠন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের অবস্থান দৃঢ় করছে। তাছাড়া, আসাদপন্থি মিলিশিয়াদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ গোলাবারুদ থাকলেও, তারা খুব বেশি জনগণের সমর্থন পাচ্ছে না।
শারা, যিনি বর্তমানে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের নেতা, পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন। তার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে, সিরিয়ার পুনর্গঠন কাজ শুরু করা। তবে, পশ্চিমা দেশগুলো এখনও সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে দূরত্ব বজায় রেখেছে।
বিশ্বের অন্যান্য শক্তিশালী দেশ যেমন রাশিয়া এবং তুরস্ক, সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে কাজ করছে। তুরস্ক আসাদপন্থি সরকারের পতন ঠেকানোর চেষ্টা করছে, কারণ এর প্রভাব তাদের দেশের উপর পড়তে পারে।
অবশেষে, সিরিয়ার ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই আন্তর্জাতিক কূটনীতির ওপর নির্ভরশীল, এবং শারা তার সরকারের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য শান্তির পথ অনুসরণ করতে সচেষ্ট রয়েছেন।