
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ইসরাইল এবার গাজা উপত্যকা খালি করে একটি তথাকথিত ‘মানবিক শহর’ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণায় মানবিকতার চেয়ে বরং গণউচ্ছেদ, নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কাই বেশি উঠে এসেছে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, গাজার সমগ্র জনগণকে দক্ষিণের রাফাহ শহরের ধ্বংসস্তূপের উপর গড়ে তোলা একটি নতুন মানবিক শিবিরে স্থানান্তরের জন্য সেনাবাহিনীকে প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আল-মাওয়াসি এলাকা থেকে উচ্ছেদ করা ৬ লাখ ফিলিস্তিনিকে সেখানে রাখা হবে। এরপর ধাপে ধাপে গোটা গাজার প্রায় ২১ লাখ মানুষকেই সেখানে সরিয়ে ফেলা হবে।
প্রক্রিয়া অনুযায়ী, শিবিরে প্রবেশের আগে প্রতিটি ফিলিস্তিনিকে স্ক্যান করে নিশ্চিত করা হবে তারা হামাসের সদস্য কিনা। একবার ঢুকলে, শিবির থেকে আর বের হওয়ার অনুমতি থাকবে না – অর্থাৎ গাজার মানুষদের একটি বিশাল মুক্ত খোলা কারাগারে বন্দি করে রাখার পরিকল্পনা করছে ইসরাইল।
এখানেই শেষ নয়। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় জানিয়েছেন, তারা এমন দেশ খুঁজছেন যারা ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করতে পারে— এক কথায়, ফিলিস্তিনি জনগণের জোরপূর্বক আন্তর্জাতিক অভিবাসনের পথ তৈরি করা হচ্ছে।
জাতিসংঘ ইতোমধ্যে সতর্ক করে দিয়েছে, কোনো দখলীকৃত ভূখণ্ডের অধিবাসীকে জোর করে স্থানান্তর আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অথচ সেই আইন লঙ্ঘন করে ইসরাইল সরকার এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এখনো পর্যন্ত এই বিষয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ কিংবা হামাস আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজা দখলের পর চূড়ান্ত ধাপে এই পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে ইসরাইল একটি গণহত্যা-পরবর্তী জাতিগত নির্মূল অভিযানে নেমেছে। ‘মানবিক শহর’ নাম দিয়ে এটি আসলে একটি বৃহৎ বন্দি শিবির, যেখানে স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, চলাচল – কিছুই থাকবে না।
সূত্র: The Indian Express, Jugantor, UN Office of the High Commissioner for Human Rights





























