
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট জোসেফ বোকাইয়ের নির্ভুল ইংরেজি শুনে প্রকাশ্যেই চমকে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে পাঁচ আফ্রিকান নেতার সঙ্গে আলোচনার সময় লাইবেরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানকে সরাসরি প্রশ্ন করে বসলেন ট্রাম্প, “আপনি এত সুন্দর ইংরেজি শিখলেন কোথায়?”
ট্রাম্পের প্রশ্ন শুনে হাসিতে ফেটে পড়ে উপস্থিত প্রতিনিধিরা। প্রেসিডেন্ট বোকাই শান্তভাবে জানান, লাইবেরিয়া স্বাধীন আফ্রিকান রাষ্ট্র হলেও এখানকার সরকারি ভাষা বহুদিন ধরেই ইংরেজি। ১৮২২ সালে আমেরিকান কলোনাইজেশন সোসাইটি পশ্চিম আফ্রিকায় দাসপ্রথা থেকে মুক্ত আফ্রিকানদের জন্য নতুন উপনিবেশ গড়ে তোলে— সেটিই আজকের লাইবেরিয়া। ১৮৪৭ সালে স্বাধীনতা পাওয়ার পর থেকেই দেশটির অফিসিয়াল ভাষা ইংরেজি।
আফ্রিকানরা কি এখনো ট্রাম্পের চোখে ‘অশিক্ষিত’?
ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন’ বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বহু লাইবেরিয়ান। লাইবেরিয়ার তরুণ আইনজীবী আর্চি টেমেল হ্যারিস সিএনএনকে বলেছেন, “আমরা শিক্ষিত। আমাদের সরকারি ভাষাই ইংরেজি। ট্রাম্পের মন্তব্যকে প্রশংসা নয়, বরং অপমান বলেই মনে করি।”
মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পের শাসনকালেই আফ্রিকার দেশগুলো নিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য ছড়িয়েছে। অনেকের মতে, পশ্চিমা বিশ্ব এখনো আফ্রিকানদের শিক্ষার মান নিয়ে ভুল ধারণা লালন করে— ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কথাবার্তাই তার প্রমাণ।
দেশটির সাধারণ মানুষ ট্রাম্পের কথাকে নেহাতই অজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন। ইতিহাসবিদরা মনে করছেন, লাইবেরিয়ার উদাহরণ প্রমাণ করে, আফ্রিকার বহু দেশেই শিক্ষিত, দক্ষ নেতৃত্বের অভাব নেই— প্রয়োজন শুধু সমান দৃষ্টিতে দেখার মনোভাব।
সূত্র: আল জাজিরা, সিএনএন, বিবিসি,





























