
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজার পশ্চিম অংশে একটি তাঁবুর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন ৩২ বছর বয়সী রাঘদা ওবেইদ। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার কারণে তার পরিবার এখন সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। তার চার সন্তানকে নিয়ে তিনি প্রতিদিন খাবার খুঁজছেন এবং পানির ব্যবস্থা করছেন।
রাঘদা বলেন, “শেষ হামলার মুহূর্তটি ভয়ঙ্কর ছিল, যেন যুদ্ধ আবার শুরু হয়েছে। আমাদের শিশুদের চিৎকার আর ধোঁয়া দেখা, সবই মনে আছে।” তিনি জানান, তাদের জীবন সম্পূর্ণভাবে সহায়তা সংস্থার ওপর নির্ভরশীল। তাদের কাছে কোনো স্থায়ী বাড়ি নেই, কাজের সুযোগ নেই। প্রতিদিনই তারা ত্রাণ শিবির থেকে খাবার সংগ্রহ করেন।
ফাইক আজুর, ২৯, পূর্ব গাজা শহরের তুফাহ এলাকার বাসিন্দা, বলছেন, “আমি এক রকম চমক বেঁচে গিয়েছি। আমার বাড়ি আক্রমণের লক্ষ্য ছিল না, কিন্তু আশেপাশের এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে।” তার তিন কন্যা এখনও আতঙ্কে কাঁপছে। অক্টোবর মাসে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পরও ইসরায়েল বারবার হামলা চালাচ্ছে। গাজার কর্তৃপক্ষ বলছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৫০০ বার, এবং ৩৪২ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৬৭ শিশু।
ফাইক তার পরিবারকে গাজা সিটির অন্যান্য স্থানে সরিয়েছেন, নিরাপত্তার খোঁজে। তিনি বলছেন, “প্রতিদিনই ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। জীবন ৯৯% মৃত, যুদ্ধবিরতি কেবল ১% চেষ্টা মাত্র। আমরা সবকিছুতে আশা হারিয়েছি।”
পলিটিক্যাল বিশ্লেষক আহেদ ফারওয়ানা মনে করেন, ইসরায়েল গাজার বর্তমান অবস্থা বজায় রাখতে চায়, যাতে পুনর্গঠন বা রাজনৈতিক সমাধানে অগ্রগতি না ঘটে। তিনি বলেন, “নেতানিয়াহু দ্বিতীয় ধাপের দিকে এগোতে চায় না। তার লক্ষ্য গাজার অধিকাংশ জমি নিয়ন্ত্রণে আনা, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সমঝোতায় তার প্রাধান্য থাকে।”
গাজার মানুষরা দীর্ঘদিন ধরে স্থানান্তরিত এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত। রাঘদা বলছেন, “আমাদের জীবনের কোনো আয় নেই। আমরা শুধু ত্রাণ শিবিরের খাবার ও পানির ওপর বেঁচে আছি। আমাদের জীবন এক ধরনের যুদ্ধ, যেখানে যুদ্ধ নেই।”
গাজার অসহায় মানুষরা জানেন, যুদ্ধবিরতি কেবল আংশিক নিরাপত্তা দিয়েছে, কিন্তু বাস্তব শান্তি এখনও দূর। জীবন এখনো ধ্বংসের সীমানায়, এবং সাধারণ মানুষের জন্য কোনো স্থায়ী নিরাপত্তা নেই।
Source: Al Jazeera





























