
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: দেশের স্বর্ণবাজারে দাম এখনও রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে স্বর্ণের দাম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক নির্ধারিত সর্বশেষ মূল্য অনুযায়ী, দেশে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায়। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্যস্তরের অন্যতম।
এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ কিনতে খরচ করতে হবে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা।
শুধু স্বর্ণ নয়, বেড়েছে রুপার দামও। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মতে, বিশ্ববাজারে মূল্য ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে ভবিষ্যতের স্বর্ণের দাম। ফলে যারা স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনা করছেন, তারা বাজার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে সাধারণ ক্রেতাদের অনেকেই বলছেন, কয়েক বছর আগেও যে টাকায় একাধিক ভরি স্বর্ণ কেনা যেত, এখন সেই টাকায় একটি ভরি স্বর্ণ কেনাও অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিয়ে ও পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য স্বর্ণ কিনতে গিয়ে বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন ক্রেতারা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, বৈশ্বিক পরিস্থিতির বড় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন না হলে স্বর্ণের বাজারে অদূর ভবিষ্যতে আরও মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই স্বর্ণপ্রেমী ও বিনিয়োগকারীদের নজর এখন বাজারের পরবর্তী গতিপ্রকৃতির দিকে।


























