স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের ওপর যেকোনো ধরনের তাঁবেদারত্ব চাপিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চিরতরে নস্যাৎ করতে দেশবাসীকে আবারো ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, “ভবিষ্যতে কেউ যেন দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে বাংলাদেশকে আর কখনো কোনো পরাশক্তির তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটাই হোক এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার।”
শনিবার (৭ নভেম্বর) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত বর্ণাঢ্য প্রামাণ্য প্রদর্শনী ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। হাজার হাজার তরুণ-তরুণী, বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদ বিরোধী রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করে, বাংলাদেশের মানুষ জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনো কোনো অপশক্তির কাছে নতিস্বীকার করেনি।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও বিগত ১৬ বছরের বৈষম্য-ফ্যাসিবাদী শাসনের স্মৃতি স্মরণ করে তরুণ প্রজন্মকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দল-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের একমাত্র গর্বের পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশি’। সকল নাগরিকের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই পারে স্বাধীনতাকে অর্থবহ রূপ দিতে। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাত্পর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী স্লোগান তোলেন—”দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কেউ; সবার আগে বাংলাদেশ।
” অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, তিন বাহিনীর প্রধান, বিদেশি কূটনীতিকসহ সহস্রাধিক সামরিক-বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

