আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আসামের মিঞাঁ মুসলমানরা বর্তমানে এক ভয়ঙ্কর মানবিক সংকটে রয়েছে। ‘মুসলমান হয়ে আমরা কি কোনো অপরাধ করেছি?’এমন প্রশ্ন করে তারা সরকারের নৃশংস উচ্ছেদ ও নাগরিকত্ব হুমকির সামনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। ৫০ বছরের ফাজিলা খাতুন বলেন, "চিন্তায় ঘুমোতে পারি না, কোনো কিছু মুখে দিতেই ভালো লাগে না। আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ার পরে যদি নাগরিকত্বও না থাকে, তাহলে আমরা কোথায় যাব?"
ফাজিলা খাতুন বর্তমানে প্লাস্টিকের চাদর দেওয়া ছোট ছোট বস্তির ঘরে বসবাস করছেন। তার মতো আরও প্রায় ৩৩১টি পরিবার মাস দেড়েক আগে লুটুমারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নানা গ্রাম থেকে নগাঁও জেলার এই অঞ্চলে চলে এসেছে। সরকারের দাবি অনুযায়ী, এই জমি জঙ্গলের অংশে দখল করা হয়েছিল এবং উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে প্রায় ছয় হাজার বিঘা জমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
এই উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর ঠিকানা বদলেছে। ফলে, আসামের ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার আওতায় এই পরিবারগুলোকে শুনানির জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ফাজিলা খাতুন বলেন, "নোটিশ পাওয়ার পর আমি আমার ছেলেদের নিয়ে যতগুলি অফিসে যেতে বলা হয়েছিল, প্রত্যেকটিতে গিয়েছি। তিন-চার বার শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। না গেলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হত। আমার মনে এখনও ভয় আছে।"
মিনারা বেগম, ৫১ বছর বয়সী এক প্রতিবেশী বলেন, "৪০ বছর ধরে আমরা যে জমিতে বসবাস করছিলাম, সেই জমি নাকি সরকারের। আমাদের বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার নোটিশ এসেছে। সব নথি জমা দিয়েছি, কিন্তু তবুও উত্ত্যক্ত করা হচ্ছে।"
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য:
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সম্প্রতি মিঞাঁ মুসলমানদের বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, "যতদিন আমি মুখ্যমন্ত্রী আছি, কোনো মিঞাঁ শান্তিতে থাকবে না। সন্দেহভাজন নাগরিকদের হয়রানি করাই আমার কাজ।" তিনি আরও বলেছেন, রিকশার ভাড়া যদি পাঁচ টাকা হয়, তবে মিঞাঁ মুসলিমদেরকে চার টাকা দিতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তাঁর নির্বাচনী কৌশল নির্দেশ করছে। মিঞাঁ মুসলমানরা এদেশেরই নাগরিক হওয়ার পরেও তাদেরকে বৈষম্যমূলক আচরণের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের ব্যাখ্যা:
হোজাই জেলার ডেপুটি কমিশনার বিদ্যুৎ বিকাশ ভগবতী জানান, "ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন একটি আইনি প্রক্রিয়া। যাদের স্থায়ী ঠিকানা নেই বা বাড়ি নেই, তাদের নাম বাদ পড়তে পারে। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো নাগরিকের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে না।"
উচ্ছেদ অভিযানের কারণে ঠিকানা বদলানো পরিবারগুলো চার নম্বর ফর্ম পূরণ করে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
মানবিক দিক: উচ্ছেদ ও নাগরিকত্ব হুমকির সম্মুখীন মুসলমানরা আতঙ্কিত। ফাজিলা খাতুন ও মিনারা বেগমের মতো মানুষদের জন্য রাজনৈতিক ও মানবিক সহায়তা এখন অত্যন্ত জরুরি।