আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: রাজধানীসহ সারাদেশে ধারাবাহিক নাশকতার ঘটনা ঘটছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মসূচিকে ঘিরে। গত চারদিনে অন্তত ১৪টি বাসে আগুন এবং ১৫ স্থানে ১৭টি ককটেল বা হাতবোমার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনাসহ আসামিদের বিরুদ্ধে ‘জুলাই গণহত্যা মামলার’ রায় ঘোষণার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে দলটির সন্ত্রাসী ক্যাডাররা পরিকল্পিতভাবে নাশকতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোকেও টার্গেট করা হয়েছে।
শুধু রাজধানীতেই গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ জন ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ১১ দিনে সারা দেশে শতাধিক নেতা-কর্মীকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রাজধানীতে ভয়াবহ ধারাবাহিক হামলা
রাজধানীর দোলাইরপাড়, মিরপুর, আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে বাসে আগুন ও ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। মোটরসাইকেলে হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তরা দ্রুত হামলা চালিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। তারা ১৩ নভেম্বরের ‘লকডাউন কর্মসূচি’ সফল করার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ্যে দায় স্বীকারও করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান
ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আইনের সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এসব নাশকতাকারীদের দমন করা হবে। ইতোমধ্যেই কয়েকজন অর্থ জোগানদাতা ও নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হেলমেটধারী হামলাকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে।
রাজধানীর বাইরে নাশকতার চিত্র
গাজীপুর, সাভার, ফরিদপুর, খুলনা, মেহেরপুর এবং নারায়ণগঞ্জে একইভাবে বাসে আগুন ও বোমা উদ্ধার অভিযান চলছে। ফরিদপুরের আজিমনগর থেকে শতাধিক পেট্রোল বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন কর্মসূচি’ সফল করতে এসব বোমা তৈরি করা হয়েছিল। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।