আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক:আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হিসেবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’প্রতিপাদ্যকে সামনে এনে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত এই ইশতেহারে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার থেকে শুরু করে অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি এবং অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
ইশতেহারের প্রথম অধ্যায়ে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ, সাংবিধানিক সংস্কার, জাতীয় ঐক্য, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, পুলিশ সংস্কার এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে গুরুত্ব পেয়েছে বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন। দারিদ্র্য নিরসন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার, নারী ক্ষমতায়ন, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দেশব্যাপী কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, শ্রমিক ও প্রবাসী কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ইশতেহারের তৃতীয় অধ্যায়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যাংক ও আর্থিক খাত সংস্কার, শিল্প ও সেবা খাত উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের বিকাশ, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
চতুর্থ অধ্যায়ে অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা, হাওর-বাঁওড় ও উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন, নগরায়ণ ও আবাসন ব্যবস্থা উন্নত করা, নিরাপদ ও টেকসই ঢাকা বিনির্মাণ এবং পর্যটন খাতের সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে।
সবশেষ পঞ্চম অধ্যায়ে ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা, পাহাড় ও সমতলের জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতকরণ, ক্রীড়া উন্নয়ন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা এবং নৈতিকতার পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
বিএনপি নেতারা জানান, এই ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।