স্পেশাল করেসপন্ডেন্টঃ হুসাইন আল আজাদ।
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ঢাকার ব্যস্ত জনপদ, শ্রমজীবী মানুষের কোলাহল এবং রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাসে গড়ে ওঠা ঢাকা-৫ আসন আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ডেমরা, যাত্রাবাড়ী ও কদমতলীর অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক পর্যন্ত এখন একটাই আলোচনার বিষয় কোন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বেশি।
আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের ঠিক দুদিন আগে, আওয়ার টাইমস নিউজের প্রতিনিধি দল যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও কদমতলী এলাকায় জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলে। তাদের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, মোহাম্মদ কামাল হোসেনকে ঘিরে দৃশ্যমান সমর্থন। স্থানীয় ভোটাররা তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, বিভিন্ন নির্যাতনের ইতিহাস এবং মানুষের পাশে থাকার ধারাবাহিকতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তিতে জন্ম নেওয়া কামাল হোসেন শিক্ষাজীবন থেকেই মেধাবী ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন হিসেবে পরিচিত। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি তিনি এমবিএ সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনে বিতার্কিক হিসেবে তার সুনাম রাজনৈতিক জীবনের জন্য মজবুত ভিত্তি গড়ে দেয়।
তার সাংগঠনিক জীবন শুরু হয় ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে। ধাপে ধাপে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে মতিঝিল থানা আমীরসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
রাজপথের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে বহুবার গ্রেপ্তার, মামলা ও কারাবাসের মুখোমুখি হতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় কারাবাস এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে যাননি। তার পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বিভিন্ন সময় ক্ষতির মুখে পড়েছে, তবুও তিনি জনসম্পৃক্ততা অটুট রেখেছেন।
ঢাকা ৫ আসনের বিভিন্ন এলাকায় তার সামাজিক কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ। দরিদ্রদের সহায়তা, খাদ্য বিতরণ, শীতবস্ত্র প্রদান, যুব উন্নয়নমূলক কাজ, ক্রীড়া আয়োজন, মাদকবিরোধী কার্যক্রম, বৃক্ষরোপণ ও স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে তার সম্পৃক্ততার কথা স্থানীয়রা উল্লেখ করেন। অনেকেই বলেন, প্রয়োজনে তাকে সরাসরি পাওয়া যায়, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে কামাল হোসেন ঢাকার রাজপথে একজন অগ্রণী নেতা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। গণমাধ্যম ও স্থানীয় জনমতের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আন্দোলনের সময় তিনি কেবল নেতৃত্ব দান করেননি, বরং ছাত্র, যুবক ও সাধারণ জনগণকে সংগঠিত করতে এবং মিছিল ও সমাবেশের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
জনসাধারণ মনে করেন, তার দৃঢ় নেতৃত্ব, সাহসী মনোভাব এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আন্দোলনকে সুসংগঠিত করেছে। কঠোর দমন-পীড়নের মধ্যেও তিনি আন্দোলনকারীদের সাহস যোগাতে সক্ষম হয়েছেন এবং তাদের সঠিক পথে পরিচালনা করেছেন। স্থানীয় ভোটাররা উল্লেখ করেছেন, কামাল হোসেনের এই ভূমিকা আন্দোলনের সময় একটি স্থিতিশীল ও প্রেরণাদায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে। গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জুলাই বিপ্লবের সময় সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীরা তার নেতৃত্বকে প্রেরণার প্রতীক হিসেবে মনে করেন। আন্দোলন শেষে তিনি শহীদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, অর্থনৈতিক সহায়তা এবং মানসিক সমর্থনের মাধ্যমে বিপ্লবের চেতনাকে ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা: ঢাকা ৫ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির নবীউল্লাহ নবী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে স্থানীয় ভোটারদের এক বড় অংশ মনে করেন, প্রচার-প্রচারণা, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের দিক থেকে কামাল হোসেন অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন।
চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ: আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ) নির্বাচনের ঠিক দুদিন আগে, আওয়ার টাইমস নিউজের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ঢাকা-৫ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনায় কামাল হোসেন ৮০% এগিয়ে রয়েছেন। স্থানীয় জনমত এবং সরাসরি ভোটারদের কথোপকথনকে ভিত্তি করে তৈরি এই পর্যবেক্ষণ তার দীর্ঘদিনের মানবিক সেবা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং জনগণের সঙ্গে গভীর সংযোগকে প্রতিফলিত করছে।