অযথা কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকার উপকারিতা।

0

Our Times News

কেননা অযথা কথা ও কাজে না আছে ইহকালীন উপকার না আছে পরকালীন উপকার। মুমিনের শান হচ্ছে উপকারবিহীন কোনো কথাবার্তা না বলা। অযথা কাজ পরিহার করা। অযথা কথা ও কাজ মুমিনকে রব্বুল আলামিনের স্মরণ থেকে উদাসীন করে দেয়।

নবী করীম সা. এরশাদ করেন,
“যে চুপ থাকে সে নাজাত( মুক্তি) পায়”।
জামে তিরমিজি হাদিস নং ২৫০১
সহীহুল বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে,
যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাসী সে যেন ভাল কথা বলে নতুবা চুপ থাকে।
সহীহুল বুখারী হাদিস নং ৬৪৭৫
অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
নিশ্চয়ই ইসলামের সৌন্দর্য হচ্ছে অযথা কাজ বা কথা পরিত্যাগ করা।
জামে তিরমিজি হাদিস নং ২৩১৮
একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে,
“কথায় বিপদ ডেকে আনে” ।

ইমামে আযম আবু হানিফা নোমান বিন ছাবেত রহিমাহুল্লাহ সদা ফিকিরে নিমগ্ন থাকতেন।
তাই তো তাঁর আংটিতে লেখা ছিল
“ভাল বা কল্যাণকর কথা বলুন অন্যথায় চুপ থাকুন”।
আসুন চুপ থাকি। অযথা কথা বা কাজ থেকে বিরত থাকি, অবসর সময়কে কাজে লাগাই।
আল্লাহমুখী হই,কারণ জান্নাতীরা দুনিয়ার অর্থহীন সময়ের জন্যই আফসোস করবে।

আজ আপনাদের নিকট লোকমান হাকীম রহিমাহুল্লাহ’র এত বড় ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদার অধিকারী হওয়ার কাহিনি তাঁর জবানিতেই শুনাবো।
একদিন হযরত লোকমান রহ. বিরাট সমাবেশে উপস্থিত হয়ে লোকদেরকে সারগর্ভ কথা শুনাচ্ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করলো যে, আপনি কি সে ব্যক্তি – যে আমার সাথে অমুক বনে অমুকের ছাগল চরাতো? লোকমান বলরলেন, হাঁ- আমিই সে লোক। অতঃপর লোকটি বললো, আপনি এত মর্যাদা কিভাবে লাভ করলেন যে, রব্বুল আলামিনের সৃষ্টিকুল আপনার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এবং আপনার বাণী শোনার জন্য দূর- দূরান্ত থেকে এসে সমাগম হয়। লোকমান হাকীম রহ. বললেন, এর কারণ আমার দু’টি কাজ- ১. সর্বদা সত্য বলা, ২. অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা পরিহার করা।

অপর এক বর্ণনায় আছে যে, এমন কতগুলো কাজ আছে যা আমাকে এ স্তরে উন্নীত করেছে। যদি তুমি তা গ্রহণ কর তবে তুমিও এ মর্যাদা ও স্থান লাভ করতে পারবে। সে কাগুলো হলো,
১. দৃষ্টি অবনত রাখা।
২. মুখ বন্ধ করা।
৩. হালাল জীবিকাতে তুষ্ট থাকা।
৪. লজ্জাস্থান হেফাযত করা।
৫. সত্য কথায় অটল থাকা।
৬. ওয়াদা পূর্ণ করা।
৭. মেহমানের আপ্যায়ন করা।
৮. প্রতিবেশীর প্রতি লক্ষ রাখা।
৯. অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা পরিহার করা।
[তাফসীরে ইবনে কাসীর- ৬.১৪৭-৪৮]

আল্লাহ তায়ালা আমাদের বুঝার তাওফিক দান করুন এবং অযথা কথা ও কাজ পরিহার করার তাওফিক দান করুন।

লেখক- মুফতী আব্দুল্লাহ ইদরীস

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে