কুরআন ও হাদীসের আলোকে কুরবানীর ইতিহাস।

0

পৃথিবীর আদিকাল হতেই কোরবানির প্রচলন রয়েছে। মহান আল্লাহপাক ঘোষণা করেন, ‘আর আমি নির্ধারণ করেছি প্রত্যেক জাতির জন্যই কোরবানি, যেন তারা তাদেরকে প্রদত্ত চতুষ্পদ জন্তু দ্বারা আল্লাহর নাম স্মরণ করে ‘। (সূরা হজ্জ)
ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় হযরত আদম আলাইহিস সালাম সর্বপ্রথম তার দুই সন্তান হাবিল ও কাবিলের মধ্যে বিবাহ নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে হযরত আদম আলাইহিস সালাম তাদেরকে এখলাসের সঙ্গে কোরবানি করার নির্দেশ দেন। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনুল কারীমে ঘোষণা করেন :’হে হাবীব (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনি তাদেরকে পাঠ করে শুনিয়ে দিন আদমের পুত্রদ্বয়ের ঘটনাকে যথার্থরূপে। যখন তারা উভয়ে নৈকট্য লাভের জন্য কোরবানি দিয়েছিল, অতঃপর তাদের একজনের কোরবানি কবুল করা হলো এবং অপরজনের কোরবানি গ্রহণ করা হয়নি। সে বলল: আমি তোমাকে হত্যা করবই, তখন প্রথমজন বলল: আল্লাহ তাআলা মুত্তাকীনদের আমলই কবুল করে থাকেন। (সূরা মায়িদা)
এরপর হযরত ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) ৮৬ বছর বয়সে আল্লাহ তাআলার দরবারে কান্নাকাটি করে হযরত ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)কে গ্রহণ করেন। অতঃপর মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন হযরত ইসমাইল (আলাইহিস সালাম) কে কোরবানির নির্দেশ দানের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বে কোরবানির প্রচলন ঘটে। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে এরশাদ হচ্ছে:’ পিতা বললেন: হে আমার প্রিয় সন্তান! আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, তোমাকে যবেহ করছি, এতে তোমার মত কি? ছেলে উত্তরে বলল : আব্বাজান! আপনার নির্দেশিত কাজ আপনি করে ফেলুন। ইনশাআল্লাহ, আপনি আমাকে সবরকারীদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন। যখন তারা আত্মসমর্পণ করলেন এবং পুত্র কে উপর করে শোয়ালেন এবং আমি তাকে ডাকলাম হে ইব্রাহীম! নিশ্চয়ই আপনি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখিয়েছেন। আমি বিশিষ্ট বান্দাকে এরূপ পুরস্কার প্রদান করে থাকি। প্রকৃতপক্ষে ইহা ছিল এক বড় পরীক্ষা।

(সুরা সাফফাত)
পবিত্র হাদীস শরীফেও এ বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম হুজুর আকরাম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে কুরবানী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন; এটা হলো
আমাদের পিতা হযরত ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর সুন্নাত।

লেখক: মুফতি মুহাম্মাদ জহিরুল ইসলাম সিরাজী

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে