পবিএ ‌ হজের গুরুত্ব ও শিক্ষা

0

ইসলাম যে পাঁচটি ভিত্তির ওপর তার অস্তিত্ব ও অবকাঠামো দাঁড় করিয়েছে, তার মধ্যে পঞ্চম মৌল ভিত্তি হলো হজ। সুস্থ, প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন এবং প্রয়োজনীয় অর্থসঙ্গতি আছে, এমন মুসলমানের ওপর জীবনে একবার পবিত্র হজ করা ফরয। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন : ‘মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে এ ঘরের হজ করা তার অবশ্য কর্তব্য
(সূরা আলে ইমরান : ৯৭)

হাদীসে শরীফে রাসূলুল্লাহ (সা:) ইরশাদ করেছেন : ‘হে মানবমণ্ডলী ! আল্লাহ তা’আলা তোমাদের ওপর হজ ফরয করে দিয়েছেন। কাজেই তোমরা হজ পালন কর।-(সহীহ মুসলিম,কিতাবুল হজ)
হজের ফযীলত বর্ণনা করে তিনি বলেন :
১,হজ্জে মাবরুরের প্রতিদান একমাত্র জান্নাত।
২,যে ব্যক্তি ঝগড়া ফাসাদ ও অশ্লীলতা মুক্ত হজ করে সে সদ্য ভূমিষ্ট শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে।
৩,হজ-উমরা দরিদ্রতা দূর করে।
হজ না করার কুফল বর্ণনা করে ইরশাদ করেন :’যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ করল না,সে ইয়াহুদী হয়ে মৃত্যুবরণ করুক বা খ্রিস্টান হয়ে।(আমি তার কোন যিম্মাদার নই)
উপরোক্ত বর্ণনা দ্বারা হজের গুরুত্ব দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট। এ গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হতে আমরা প্রতিবছর অনেক কিছু  লাভ করি ও শিখি:যথা-
১। প্রেমিককে প্রেমাস্পদের গৃহ অবলোকন তথা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের সুযোগ করে দেয়।
২। ক্ষমা লাভ হয়।
৩।আখিরাতের স্থায়ী সফলতা অর্জিত হয়।
৪।আত্নিক শান্তি লাভ হয়।
৫।আত্নশুদ্ধি অর্জন হয়।
৬।সবরের প্রশিক্ষণ লাভ হয়।
৭।ঐক্য ও সংহতি সৃষ্টি হয়।
৮।সাম্যবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটে।
৯।সুদৃঢ় ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি হয়।
১০।শৃঙ্খলার প্রশিক্ষণ লাভ হয়।
১১।ইতিহাস সচেতনতা তৈরী হয়।
১২।বার্ষিক ইসলামী মহাসম্মেলন হয়।
১৩।আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়।
১৪।দায়িত্ববোধ- অধিকার ও সচেতনতা সৃষ্টি হয়।
১৫।ত্যাগের প্রশিক্ষণ হয়।
১৬।আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন লাভ হয়।
১৭।কর্মসংস্থান তৈরি হয়।
তবে মনে রাখতে হবে, ইসলামের মৌলিক ইবাদতসমূহ নিছক আনুষ্ঠানিকতা মাত্র নয়। বরং এ সব ইবাদত হচ্ছে মানুষের দৈহিক,আত্নিক,ধর্মীয়,সামাজিক,অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক জীবনযাত্রার বাস্তব দিকনির্দেশনা। এর মাধ্যমে মুমিনদেরকে বৃহত্তর জীবনে যোগ্যতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত করা হয়। সুতরাং মুমিনদের কর্তব্য হলো – মৌলিক ইবাদতসমূহের আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি জীবনে এগুলোর শিক্ষাসমূহ বাস্তবায়নে আন্তরিক উদ্যোগ নেয়া। তাহলেই জীবনে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসবে। দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনযাত্রা চিরস্থায়ী শান্তিতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে। যে উদ্দেশ্যে আল্লাহ তা’আলা এ ইবাদতসমূহের বিধান দিয়েছেন তা সফল ও সার্থক হবে।
(আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকলকে সঠিক ভাবে বুঝার ও আমল করার তৌফিক দান করুন, আমীন।

লেখক : ( মুফতি মুহাম্মাদ জহিরুল ইসলাম সিরাজী )

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে