আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা আর ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে আবারও নতুন ইতিহাস গড়ল স্বর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ২.৩৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,০৪১.৮০ ডলারে।
একদিন আগেও মার্কিন শেয়ারবাজারে ধসের প্রভাবে দাম ৫ হাজার ডলারের নিচে নেমে গেলেও বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদে ঝোঁক বাড়ায় তা দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও বেড়ে ৫,০৪৬.৩০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে রুপার বাজারেও বড় উত্থান দেখা গেছে। রুপার দাম ৪.৬ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৭৮.৫৯ ডলারে উঠেছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে রুপা প্রথমবারের মতো ১০০ ডলারের রেকর্ড স্পর্শ করেছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ৫ হাজার ডলার স্বর্ণের জন্য একটি মানসিক সীমা। এটি স্থায়ীভাবে অতিক্রম করলে সামনে আরও বড় উত্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সুদহার নীতির প্রভাব, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও বেকারত্ব কমার তথ্য বাজারে নতুন বার্তা দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, Federal Reserve জুন মাসে নীতি সুদহার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট কমাতে পারে। সুদের হার কমলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে এবং সুদহার নিম্নমুখী হলে স্বর্ণের চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
২০২৬ সালে স্বর্ণ কি ৭,০০০ ডলার ছাড়াবে?
London Bullion Market Association তাদের বার্ষিক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, ২০২৬ সালে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ৭,১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।
অন্যদিকে J.P. Morgan এবং Goldman Sachs স্বর্ণের লক্ষ্যমাত্রা ৫,৪০০ থেকে ৬,০০০ ডলারের মধ্যে নির্ধারণ করেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারাবাহিক সোনা ক্রয় এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দামকে আরও উঁচুতে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে ভরি প্রতি কত হতে পারে?
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ৫,০৪৬ ডলার হলে, ডলার রেট ও আমদানি খরচ বিবেচনায় বাংলাদেশে ভরি প্রতি স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড ছুঁতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট ভরি দর নির্ভর করবে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) ঘোষণার ওপর।