আওয়ার টাইমস নিউজ।
শিক্ষাঙ্গন নিউজ ডেস্কঃ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত জামিয়া হোসাইনিয়া মাদিনাতুল উলুম মাদানী নগর আবারও দারুণ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে কওমি অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত ৪৯তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা চমকপ্রদ ফলাফল অর্জন করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্জন, এই মাদ্রাসার কৃতি শিক্ষার্থী হাফেজ তাশরীফ আহমেদ আয়ান সারাদেশের মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে।
চিটাগাং রোড সংলগ্ন ওয়ালটন গলি, মাদানী নগর, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০২২ সালে। অল্প সময়ের মধ্যেই আরবি ও ইংরেজি মাধ্যম সমন্বিত মাদানী নেসাবভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার গুণগত মান, শৃঙ্খলা এবং নৈতিকতার দিক থেকে অভিভাবক মহলে আস্থা অর্জন করেছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, এবারের ৪৯তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় মাদ্রাসাটি থেকে ৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৪ জন এ প্লাস মুমতাজ অর্জন করে এবং হাফেজ তাশরীফ আহমেদ আয়ান সারাদেশে প্রথম স্থান লাভ করে প্রতিষ্ঠানের গৌরব বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাশরীফ আহমেদ আয়ানের পিতা মরহুম আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাতা ফারজানা আক্তার। তাদের বাড়ি দক্ষিণ শ্রীপুর পঞ্চায়েত বাড়ি, ডাকঘর শ্রীপুর বাজার, থানা হাজীগঞ্জ, জেলা চাঁদপুর।
শুধু এবারই নয়, প্রতিষ্ঠানটি এর আগেও একাধিকবার মাদানী নেসাব বোর্ড পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান লাভ করেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফলের মাধ্যমে জামিয়া হোসাইনিয়া মাদিনাতুল উলুম মাদানী নগর এখন একটি সম্ভাবনাময় ও উদীয়মান দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির আরও একটি গৌরবোজ্জ্বল দিক হচ্ছে, ২৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে ১৬ জন মুমতাজ এ প্লাস অর্জন করেছে। এছাড়া বিগত বছরে ২০ জন শিক্ষার্থী বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার হিফজ পরীক্ষা দিয়ে ১২ জন এ প্লাস মুমতাজ লাভ করে। এমন ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে, মাদ্রাসাটি শুধু পরীক্ষার ফলাফলেই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের যোগ্য ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেও সক্ষম হচ্ছে।
মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টরা জানান, এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অত্যন্ত মেধাবী, দরদী, ছাত্রবান্ধব ও পরিশ্রমী। এখানে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যজ্ঞান নয়, বরং ইলম, আমল ও আদব-আখলাক এই তিনটি ভিত্তির ওপর গড়ে তোলা হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন ভালো ফল করছে, অন্যদিকে তেমনি নৈতিকতা ও শিষ্টাচারেও এগিয়ে যাচ্ছে।
এ সাফল্যের পেছনে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা সাইফুল ইসলাম আল হোসাইনীর নিরলস তত্ত্বাবধান, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং আন্তরিক পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের ভাষ্য, অল্প সময়ের মধ্যে এমন সাফল্য সত্যিই প্রশংসনীয় এবং তা নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশের দ্বীনি শিক্ষাঙ্গনের জন্য অনুপ্রেরণার বিষয়।
এদিকে হাফেজ তাশরীফ আয়ানের শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মোজাম্মেল হোসাইন আওয়ার টাইমস নিউজকে জানান, হাফেজ তাশরীফ আয়ান শুধু মেধার দিক দিয়ে নয়, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা এবং আদর্শ ছাত্র হওয়ার দিক থেকেও সকলের জন্য এক উদাহরণ স্থাপন করেছেন। তার এই সাফল্যের পিছনে তার অধ্যবসায়, আন্তরিক পরিশ্রম এবং ইসলামী শিক্ষার প্রতি আন্তরিক ভালবাসা মূল চালিকা শক্তি। আমরা, তার শিক্ষকগণ, তার এই অর্জনে অত্যন্ত গর্বিত। জামিয়া হোসাইনিয়া মাদিনাতুল উলুম মাদানী নগরের শিক্ষাদান পদ্ধতি, বিশেষভাবে মাদানি নেসাব ও আরবী-ইংরেজি শিক্ষার সমন্বয়, শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ মেধা ও নৈতিকতার বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। হাফেজ তাশরীফের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক দিকনির্দেশনা ও অধ্যবসায় থাকলে শিক্ষার্থীরা দেশের সেরা হতে পারে।”
আর অন্যদিকে জামিয়া হোসাইনিয়া মাদিনাতুল উলুম মাদানী নগরের এই অসাধারণ অর্জনে এলাকায় আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। অনেকেই মনে করছেন, এভাবেই এগিয়ে গেলে অচিরেই মাদ্রাসাটি দেশের অন্যতম পরিচিত ও বিশ্বস্ত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।