আওয়ার টাইমস নিউজ।
রাজনীতি: বাংলাদেশ ২০২৪ পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু করেছে। এই পরিবর্তন কেবল দেশের রাজনীতিকেই নতুন দিকে নিয়ে যায়নি, দক্ষিণ এশিয়ার শক্তিধর রাষ্ট্র ভারতও নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার পতন ও আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ড-সংক্রান্ত রায়ের পর বড় প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, ভারত কি তাকে ফেরত দেবে, না কি তাকে রাজনৈতিক সম্পদ হিসেবে ধরে রাখতে চাইবে?
কেন নয়াদিল্লির কাছে শেখ হাসিনা এখনো গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার সময় তিনি ভারতের বিভিন্ন কৌশলগত দাবিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, এমন মূল্যায়ন ভারতের নিরাপত্তা ও নীতি-নির্ধারণী মহলে বহুদিনের। সীমান্ত-নিরাপত্তা, বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন, আঞ্চলিক ট্রানজিট, বন্দর সুবিধা, এই সবগুলো ক্ষেত্রেই তারা তাকে বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের স্বার্থবান্ধব হিসেবে দেখেছে। এ কারণে দিল্লির দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন এমন একজন রাজনৈতিক নেতৃত্ব, যার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের ভেতরে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে পারত।
ভারত কেন বিকল্প খুঁজে পাচ্ছে না
দিল্লির কাছে শেখ হাসিনা শুধু একজন অতীত সহযোগী নন, তিনি ভারতকেন্দ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশে বড় হয়েছেন, তার পরিবারের দীর্ঘ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে ভারতের নীতিনির্ধারকদের কাছে তাকে ‘বিশ্বস্ত অংশীদার’ হিসেবে দেখা হত। কিন্তু নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারত বছরের পর বছর দূরত্ব বজায় রেখেছে, ফলে এখন তারা দ্রুত নতুন জোট গড়তে পারছে না।
ভোটব্যাংকের ভুল হিসাব
ভারত বহুদিন ধরে ধরে নিয়েছিল, আওয়ামী লীগ সব পরিস্থিতিতে অন্তত ২০–২৫ শতাংশ ভোট ধরে রাখতে পারবে। কিন্তু সাম্প্রতিক জনমত, তরুণদের রাজনীতি, প্রবাসী জনগোষ্ঠীর অবস্থান, সবকিছু মিলিয়ে এই তত্ত্ব এখন আর বাস্তবসম্মত নয়। নতুন বাস্তবতায় তাদের সমর্থন ৫–৮ শতাংশের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা কম, এমন ধারণাই এখন বিশ্লেষকদের। ভারত এই পরিবর্তন বুঝতে না পারলে তাদের বাংলাদেশনীতি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ভারতের সম্ভাব্য কৌশল
কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, ভারত হয়তো শেখ হাসিনাকে একটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ‘বিনিয়োগ’ হিসেবে ধরে রাখতে চাইছে, একসময় তাকে বা তার রাজনৈতিক কাঠামোকে পুনরায় প্রভাবশালী করার আশায়। এ ছাড়া দিল্লি এখনো জুলাই অভ্যুত্থানকে পূর্ণ রাজনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে গ্রহণ করেনি, এমন অভিযোগও রয়েছে।
বাংলাদেশের করণীয়
বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো,
১. ভারতের পুরোনো ধারণা যে ভুল, তা কূটনৈতিকভাবে স্পষ্ট করা
২. অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে বহুমুখী করে নির্ভরতা কমানো
৩. ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনায় ভারসাম্য বজায় রাখা, অন্ধ আনুগত্য নয়, অকারণ সংঘাতও নয়
৪. জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি পররাষ্ট্রনীতি প্রস্তুত করা