আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোয় হামলায় নিহত ২০ !!

0

রিপোর্টার: সাইফুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার আফ্রিকার মুসলিম-প্রধান গরীব দেশ বুরকিনা ফাসোর একজন সরকারি মুখপাত্র রিমিস ফুলগানস ডান্ডজিনু জানিয়েছেন, দেশটির উত্তরাঞ্চালীয় সেনো প্রদেশের ৩টি গ্রামে বুধবার মুজাহিদদের হামলায় অন্তত ২০ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। সশস্ত্র দলগুলো ডেমনিওল, বোম্বোফা এবং পিটগুয়ার্স (গোরগাদজির সম্প্রদায় অধ্যুষিত) বাজার ও গ্রামে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা চালালে, এ ঘটনা ঘটে। সে সঙ্গে কয়েকজন আহত হয়েছে এবং কয়েকজন নিখোঁজও রয়েছে।

তবে ঐ এলাকার এক বাসিন্দা বলেন: মুজাহিদদের হামলায় ২৪ জন নিহত হয়েছে।

উল্লেখ্য, পশ্চিম আফ্রিকার অন্যতম দরিদ্র দেশ বুরকিনা ফাসো। যতোদূর জানা যায়, ১০ম ও ১১শ শতকের দিকে এখানকার বাসিন্দারা প্রথম ইসলামের সংস্পর্শে আসে।

১৮৯৬ সালে অঞ্চলটি ফরাসি উপনিবেশে পরিণত হয়। ১৯১৯ সালে ফরাসিরা এর নাম রাখে ‘আপার ভোল্টা। প্রায় ৭০ বছরের ফরাসি আমলে এখানে ইসলামের ব্যাপক প্রচার-প্রসার ঘটে। খৃষ্টান মিশনারী ব্যাপক প্রচার-প্রসার চালিয়েও এক লাখের বেশি লোককে খৃষ্টান বানাতে পারেনি। মেন্দি, হাউসা ও ফুলানী গোত্রীয়রা আগেই ইসলামে দীক্ষা নিয়েছিলো। আর উপনিবেশিক যুগে স্থানীয় পরাজিত শাসক-গোষ্ঠী মোসি গোত্রীয়রা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে।

৫ই আগস্ট ১৯৬০-এ ‘দ্য রিপাবলিক অব আপার ভোল্টা’ স্বাধীনতা লাভ করে। ৪ঠা আগস্ট ১৯৮৪-তে দেশটির নাম রাখা হয় বুরকিনা ফাসো, অর্থাৎ নৈতিক জাতির দেশ। জনগোষ্ঠীর ৬৫% মুসলমান (অধিকাংশই সুন্নী ও মালিকী মাযহাবী) হওয়া সত্ত্বেও দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, শুরু থেকেই দেশটিকে অমুসলিম শাসকরা শাসন করে আসছে! ফলে, ২০১৬ সাল থেকে শরীয়া আইন কায়েমের লক্ষ্যে আল-কায়েদা ইন দি ইসলামিক মাগরিব (একিউআইএম) এ দেশে তৎপরতা চালাচ্ছে। অমুসলিম সংবাদ সংস্থাগুলো আল-কায়েদার কর্মকাণ্ডকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে সন্ত্রাসী, জিহাদী, জঙ্গী ইত্যাদি নামে প্রচারণা চালিয়ে থাকে। সূত্র: এএফপি ও অন্যান্য।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে