আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করে ক্ষমতা দখলের চেষ্টায় ৩ জন গ্রেপ্তার!

0

Our Times News

শনিবার আর্মেনিয়ার ন্যাশনাল সিকিউরিটি সার্ভিস বা এনএসএস জানিয়েছে, তারা দেশটির প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশনিয়ানকে হত্যার একটি পরিকল্পনা প্রতিহত করেছে। আজারবাইজানের সঙ্গে সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর, পাশনিয়ানের কাছ থেকে ক্ষমতা দখলের উদ্দেশে এ হত্যা প্রচেষ্টা চালানো হয় এবং এর সঙ্গে সাবেক কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। এনএসএস‘র সাবেক প্রধান আর্তুর ভানেসতিয়ান, রিপাবলিকান পার্টির সাবেক সংসদীয় দলের প্রধান বাহরাম বাগদাসারিয়ান এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও যুদ্ধে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণকারী আশোত মিনাসিয়ানকে বন্দী করা হয়েছে। সন্দেভাজন এসব ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার পর, ক্ষমতা দখল করে কাকে নতুন প্রধানমন্ত্রীর করা হবে, তাও তারা আলোচনা করেছেন!

নাগোর্নো-কারাবাখ নিয়ে আজারবাইজানের সঙ্গে আর্মেনিয়ার গত ৬ সপ্তাহের প্রচণ্ড লড়াইয়ে শোচনীয়ভাবে পরাজয়ের পর, বাকুর সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি করায় পাশনিয়ান মারাত্মক চাপে রয়েছেন। যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর, মঙ্গলবার থেকে তার বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ রাজধানী ইয়েরেভানসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছে। তারা তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়েও স্লোগান দেয় এবং সংসদ ভবনেও ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। তবে চাপের মুখে পড়লেও উনি বলেছেন: পরিপূর্ণভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়ার অবস্থা থেকে বাঁচতেই আমি আজারবাইজানের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছি। এছাড়া, আমার সামনে বিকল্প কোনো পথ ছিলো না।

এদিকে, আল-জাজিরা জানিয়েছে, অধিকৃত কালবাজারের বাসিন্দাদের চুক্তি মোতাবেক, তাদের বসতি আজ (রোববার) ছেড়ে দেয়ার কথা। ঐ অঞ্চলটিতে কয়েক দশক ধরে জাতিগত আর্মেনীয়রা বসবাস করে আসছে। তবে আজ আজারবাইজান ঐ অঞ্চলটি সর্ম্পণ খালি করতে আরো ১০দিন সময় বাড়িয়েছে।

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হিকমত হাজিয়েভ জানিয়েছেন, কালবাজারে আর্মেনীয় বাহিনী ও তাদের অবৈধ বাসিন্দাদের এলাকাটি ছাড়তে ২৫শে নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। অধিকৃত অঞ্চলের মধ্যস্থতাকারী রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লামিদির পুতিনের মাধ্যমে আর্মেনীয়া সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেছে। মানবিক কারণে আজারি প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলীয়েভ প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছেন।

১৯৯৪ সালে নাগোর্নো-কারাবাখ যুদ্ধ যখন শেষ হয়, তখন হাজার হাজার আজারবাইজানি তাদের বসতি হারিয়েছিলো। কালবাজারে ঐসব বসতি আর্মেনীয়রা দখল করে নেয়। আর সেসব বাড়ী ছেড়ে দেয়ার সময় আর্মেনীয়রা সেগুলো পোড়াচ্ছে। সূত্র: পার্সটুডে ও আল-জাজিরা।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে