আয়া সোফিয়াকে মাসজিদে রূপান্তরিত করলো তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।

0

মুহাম্মাদ উজ্জ্বল খাঁন

প্রথমে আয়া সোফিয়া ছিল একটি গির্জা৷ বাইজেন্টাইন সম্রাট জাস্টিনিয়ান ৬ষ্ঠ শতকে এটি নির্মাণ করে ছিলেন। অটোম্যানরা কনস্টান্টিনোপল জয়ের পর ১৪৫৩ সালে দ্বিতীয় সুলতান মেহমেদ এই ক্যাথিড্রালটিকে মসজিদে রূপান্তর করেন। ১৯৩৫ সালে মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক এটিকে জাদুঘরে পরিণত করেন৷

ইস্তাম্বুলের জগৎ বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র ইউনেস্কোর বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়াকে পূনরায় মসজিদে রূপান্তর করেছে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম অবিসংবাদিত নেতা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান৷ ১০ই জুলাই ২০২০ খ্রীস্টাব্দ রোজ শুক্রবার তুরস্কের প্রশাসনিক আদালত এবং এরদোয়ানের ঘোষণার পর অল্প সময়ের মধ্যেই এই মসজিদ থেকে আজানের সুমধুর ধ্বনি বেজে ওঠে। খুশিতে মেতে ওঠে তুর্কি জনগণ। তারা ইস্তাম্বুলের আয়া সোফিয়ার আশপাশে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে মুখরিত করে তোলে। ৮৬ বছর পর আবারও মসজিদে ফিরেছে আয়া সোফিয়া৷ তুরস্কের জনগণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একে অপরকে স্বাগত এবং অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এই ঘোষণার পর অনেকই ইতিবাচক এবং নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্ররোচিত করেছে। ইতোমধ্যেই এরদোয়ানের এই কাজে নিন্দা জানিয়েছে গ্রীসসহ কিছু পাশ্চাত্য দেশ।

এরদোয়ানের রাজনৈতিক দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভলপমেন্টের (একেপি) ডেপুটি চেয়ারম্যান নুমান কর্তুলমুস এরদোয়ানের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ‘‘আয়া সোফিয়া আমাদের ভৌগোলিক সম্পত্তি৷ তলোয়ার দিয়ে যারা এটি জয় করেছেন এই সম্পত্তির অধিকার তাদেরই৷” নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আত্মবিশ্বাসী একেপি৷ তার অংশ হিসেবে গত মাসে ১৪৫৩ সালে অটোমানদের কন্টানটিনোপল (বর্তমানে ইস্তানবুল) জয়ের বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়া সোফিয়ার ভেতরে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়৷

গ্রীস এরদোয়ানের সিদ্ধান্তকে নিন্দা জানায়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি এরদোয়ান গ্রিক সম্প্রদায়ের প্রতি বলেন, ‘‘আপনারা বলেছেন, ‘অনুগ্রহ করে আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর করবেন না’৷ তুরস্ক কি আপনাদের কথায় চলবে? আমরা কাউন্সিল অব স্টেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই কাজ করবো ইনশাআল্লাহ। ”

এক সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেছেন, ২৪ জুলাই আয়া সোফিয়ার মুল ভবনের ভিতরে মুসলমানেরা প্রথম নামাজ আদায় করবে এবং অন্যান্য মসজিদের মতো আয়া সোফিয়া মসজিদও স্থানীয়, অপরিচিত, মুসলমান এবং অমুসলিমদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসোগলু জানান, এটা কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক ইস্যু না৷ আন্তর্জাতিক মহলের এ ব্যাপারে কথা বলার অধিকার নেই বলেও মনে করেন তিনি৷ চাভুসোগলু গ্রিসকে এ বিষয়ে ‘ভাষণ’ না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন৷ পাশাপাশি দেশটিকে মনে করিয়ে দিয়েছেন ‘এথেন্সই ইউরোপের একমাত্র রাজধানী যেখানে কোনো মসজিদ নেই৷’

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে