ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিদায়ের ঘন্টা কি তাহলে বেজে গেল?

0

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট: সাইফুল ইসলাম রুবাইয়্যাত।
আওয়ার টাইমস্ নিউজ: প্রায় দু বছর ধরে ইসরাইলের রাজনীতিতে চলছে ধারাবাহিক নাটকীয়তা! চলতি সপ্তাহে তা চরম রূপ নিয়েছে! গত এক যুগ ধরে ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহুর বিরোধীদের মাঝে রাজনৈতিক মতাদর্শের মিল খুব সামান্য হলেও একটি জায়গায় এসে তারা সবাই মিলেছেন যে, প্রত্যেকেই নেতানিয়াহুর শাসনের অবসান চান।

সরকার গঠনে ইসরাইলে ইয়েশ আতিদ দলের প্রধান ইয়ায়ির লাপিদের (৫৭) হাতে থাকা ২৮ দিনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে বুধবার। ইতোমধ্যে রোববার ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম প্রচার করছে, ডানপন্থী, মধ্যপন্থী ও বামপন্থীদের সাথে জোট গঠনের একেবারে দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছেন ইসরাইলি সাবেক এ সাংবাদিক। ফলে, ইসরাইলে সবচেয়ে দীর্ঘদিন বা ১২ বছর ধরে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী ও লিকুদ দলের প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুর বিদায় ঘণ্টা বেজে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে লাপিড সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে, দু বছরের মাঝে ৫ম নির্বাচনে যেতে হবে ইসরাইলকে। কেননা, বিগত চারটি নির্বাচনে কোনো দল বা জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয়।

লাপিডের সরকার গঠনের বিষয়টি প্রধানত নির্ভর করছে সংসদে ৬ আসন পাওয়া চরম ডানপন্থী রাজনীতিক নাফতালি বেনেটের (৪৯) ওপর। কিংমেকার বলে পরিচিত এ নেতার রোববার সিদ্ধান্ত জানানোর কথা। অবশ্য লাপিডের মধ্যপন্থী ইয়েশ আতিদ পার্টির সাথে বেনেটের জোট গঠনে রাজি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে বেনেটকে আগে নিজ দলের নেতাদের রাজি করাতে হবে। কেননা, বেনেট সম্মতি দিলেও নির্ধারিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছেন না লাপিদ। সরকার গঠনে আরব-ইসরাইলি সাংসদদের সমর্থন দরকার হচ্ছে তার – যাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বেনেটের দলের বিপরীত। গত ক-দিন ধরে প্রকাশ্যে কথা বলেননি বেনেট। কিন্তু ইসরাইলের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লাপিড জোট গড়ে সরকার গঠনের পথেই হাঁটবেন।

ইসরাইলে সরকার গঠনের জন্যে ১২০ আসনের নেসেটের (আইন পরিষদ) ৬১ সাংসদের সমর্থন দরকার হয়। প্রথম দফা আলোচনার পর, ৫২ সাংসদ প্রধানমন্ত্রী পদে নেতানিয়াহুকে সুপারিশ করায় এপ্রিলের শুরুতে তাকে সরকার গঠন করতে প্রথম মনোনয়ন দেন ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট রিভলিন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জিত না হলেও তখন এটাই ছিলো সর্বোচ্চ মনোনয়ন। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে নেতানিয়াহুকে সমর্থন করা জিউনিস্ট পার্টি কোনো আরব দলের সাথে সরকার গঠনে অমত করায় নেতানিয়াহু সরকার গঠনে ব্যর্থ হন। ফলে, ৫ই মে নতুন করে সাংসদদের সাথে আলোচনা করেন রিভলিন। এতে রক্ষণশীল ইয়ামিনা পার্টির প্রধান নাফতালি বেনেটের সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগির এক প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে মোট ৫৬ সাংসদের সুপারিশ পান লাপিদ। এ প্রস্তাবনা অনুসারে, প্রথম দু বছরের জন্যে বেনেট এবং বাকি দু বছরের জন্যে লাপিড ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হবেন!

এদিকে, নেতানিয়াহু বিরোধীদের সরকার পরিবর্তনের উদ্যোগ ঠেকাতে রোববার মরিয়া হয়ে চেষ্টা শুরু করেছেন। তবে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, টানা ১২ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী থাকার পর তার কিছুদিন বিরতি নেয়া দরকার। শুক্রবার তিনি টুইটে লিখেছেন: ‘রিয়েল অ্যালার্ট। বিপজ্জনক বামপন্থী একটি প্রশাসন সামনে এগিয়ে আসছে।’ তার নেতৃত্বাধীন জোটের নেতাদের সাথে একটি প্রস্তাবে তিনি পালাক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের প্রস্তাব দিয়েছেন – যাতে রয়েছে ডানপন্থী নিউ হরাইজন পার্টির প্রধান গিডিও সার ১৫ মাস; এরপর তিনি (নেতানিয়াহু) দু বছর; তারপর অনির্দিষ্ট সময়ের জন্যে বেনেট প্রধানমন্ত্রী হবেন। কিন্তু লিকুড পার্টির সাবেক মন্ত্রী সার এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে টুইটে লিখেছেন: ‘নেতানিয়াহুর শাসন অবসানে আমাদের অবস্থান ও প্রতিশ্রুতি বদলায়নি।’ এ বিষয়ে বেনেটের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সাবেক এ প্রতিরক্ষামন্ত্রী এর আগেও নেতানিয়াহুকে উৎখাতের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন।

অবশ্য এখনো চূড়ান্ত কিছু বলার সময় হয়নি বলে বলছেন ইসরাইলি রাজনৈতিক ভাষ্যকাররা। আজ বাম ঘরানার সংবাদপত্র হারেৎজে কলামনিস্ট ইয়োসি ভারতার লিখেছেন: প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরোধী পরিবর্তনের সরকার এখনো দৃশ্যমান হয়নি। এটা এখনো অকালপক্ক। আর তাই, শ্যাম্পেনের বোতল খোলাও যেমন ঠিক হবে না, তেমনি ঠিক হবে না – শোকের পোশাক পরে ফেলাও।

উল্লেখ্য, ডানপন্থী নেতা নেতানিয়াহু (৭১) ২০০৯ সাল থেকে টানা ক্ষমতায়। এ সময়ে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে- যেগুলোর বিচার চলছে আদালতে। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সেই নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে এবার চেষ্টা করছেন বেনেট। সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স ও বিবিসি।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে