ইসরাইলের অস্তিত্ব স্বীকার না করা পর্যন্ত কোনো শান্তি আসবে না: বাইডেন

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলের আগ্রাসন ও যুদ্ধাপরাধ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনা সত্ত্বেও দেশটির ওপর সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

শুক্রবার ওয়াশিংটন সফররত দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের সাথে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাইডেন বলেছেন: ইসরাইলের প্রতি আমার দল ডেমোক্রেটিক পার্টির নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। ইসরাইলের নিরাপত্তার বিষয়ে আমার প্রতিশ্রুতির কোনো পরিবর্তন হয়নি; আদৌ কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে আমি আপনাদেরকে বলছি, একটা পরিবর্তন আছে। সেই পরিবর্তন হচ্ছে, দু রাষ্ট্র সমাধানই একমাত্র পথ। এটিই একমাত্র জবাব, এটিই একমাত্র পথ। এ অঞ্চল (মধ্যপ্রাচ্য) দ্ব্যর্থহীনভাবে ইসরাইলের অস্তিত্ব স্বীকার না করা পর্যন্ত কোনো শান্তি আসবে না। হামাস যাতে অস্ত্রের মজুদ না গড়তে পারে, তা নিশ্চিত করতে ইসরাইলি দখলে থাকা পশ্চিম তীরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্যালেস্টাইনিয়ান অথরিটির সাথে সমন্বয় করে ঐ অঞ্চলে সহায়তা দেয়া হবে। সংঘাত বন্ধ করে শান্তি ফেরানোয় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ধন্যবাদ। তিনি কথা রেখেছেন। সংঘাত থামিয়ে শান্তি এনেছেন। ইসরাইলিদের ও হামাসের মাঝে যুদ্ধবিরতি যাতে অব্যাহত থাকে, সেজন্য আমি প্রার্থনা করেছি।

উল্লেখ্য, ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত অবসানে দু রাষ্ট্র সমাধানের ধারণা কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আলোচিত হয়ে আসছে – যার মূল ভিত্তি ইসরাইলের পাশাপাশি সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং জেরুজালেম হবে দু রাষ্ট্রের রাজধানী। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইসরাইলপন্থী নীতি এবং ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ উপেক্ষা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। তার উপদেষ্টা ও মেয়ের জামাই কুশনারের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনায় দু রাষ্ট্র সমাধানের কথা বলা হয়েছিলো ঠিকই। তবে সেই নীলনকশায় ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে খুবই সীমিত সার্বভৌমত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছিলো। তার সেই পরিকল্পনায় ইসরাইলই ফিলিস্তিনী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা দেখভাল করবে! ফিলিস্তিনী নেতারা কুশনারের সেই মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা নাকচ করে দেন। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন পুরোপুরিই দু রাষ্ট্র পরিকল্পনার বিষয়ে জোর দিয়েছেন।

এর আগে গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের ভেতরেই দেশটির কাছে প্রায় ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব করে বাইডেন প্রশাসন। তবে এ প্রস্তাব আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছে তার দলেরই বেশ কয়েকজন নেতা ও আইনপ্রণেতা। সূত্র: রয়টার্স, ওয়াশিংটন পোস্ট ও আল-জাজিরা।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে