ইসরাইলের নতুন সরকারকে উৎখাতের হুমকি বেনিইয়ামিন নেতানিয়াহুর!

0

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট: সাইফুল ইসলাম।
আওয়ার টাইমস্ নিউজ: গতকাল (রবিবার) ইসরাইলের সংসদ নতুন জোট সরকার গঠনের পক্ষে ভোট দেয়ায় অবসান হয়েছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এক যুগের শাসনের। মাত্র এক ভোটে, অর্থাৎ ৬০-৫৯ ভোটে অনুমোদন পেয়েছে নতুন জোট সরকার! ফলে, নতুন ও ১৩শ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাবেন নাফতালি বেনেত। আর লিকুদ পার্টির প্রধান হিসেবে বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু। ফলে, গত দু বছরে ইসরাইলে ৪টি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের চক্রের অবসান হলো।

নেতানিয়াহুর শাসনের অবসান ঘটাতে প্রবল মতাদর্শিক বিরোধিতা নিয়েও নতুন জোট গঠন করেছে ইসরাইলের ৮টি রাজনৈতিক দল। জোটের শর্ত মোতাবেক, ইয়ামিনা পার্টির নেতা বেনেত ২০২৩ সালে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকার পরিচালনা করবেন। এরপর তিনি ইয়েশ আতিদ পার্টির নেতা ইয়ার লাপিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। লাপিদ দু বছর ক্ষমতায় থাকবেন।

গতকাল সংসদে ভোটের সময় নীরবে বসেছিলেন নেতানিয়াহু। নতুন জোট সরকার অনুমোদন পেলে, বেনেতের সাথে হাত মিলিয়ে সংসদ কক্ষ ছেড়ে যান তিনি। পরে কালো মাস্ক পরে বিরোধী দলীয় নেতার আসনে গিয়ে বসেন তিনি।

ইসরাইলের ৭৩ বছরের ইতিহাসে বেনেতের জোটের মতো আর কোনো সরকার দেখা যায়নি। জোটে থাকা দলগুলোর আদর্শগত ভিন্নতা রয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো – এই প্রথম ইসরাইলবাসী ফিলিস্তিনীদের দল সরকার গঠনে অংশ নিচ্ছে! নতুন সরকারে রেকর্ড সংখ্যক ৮ জন নারী মন্ত্রী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

নেতানিয়াহু ২০০৯ সাল থেকে টানা ১২ বছর ৫ মেয়াদে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে তার জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে কমেছে। তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়া, জালিয়াতি ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে বিচার চলছে। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

শনিবার তেলআবিবে ইসরাইলের ডেমোক্রেসি রিসার্চ সেন্টারের সংবিধানবিষয়ক আইনজীবী আমির ফুক্স বলেছেন: দুর্নীতি, তহবিল তসরুফ ও প্রতারণার অভিযোগে ২০২০ সালের মে থেকে আদালতে নেতানিয়াহুর বিচার চলছে। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকায় এতোদিন আইনি দায়মুক্তি থাকায় তাকে আটক করা যাচ্ছিলো না। কিন্তু ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর, তার সাজা ভোগ অবধারিত হয়ে যাবে। দু বছর ধরে এ প্রশ্ন সামনে ছিলো যে, উনি নিজেকে বিচারের ঊর্ধ্বে রাখতে কি সংবিধান সংশোধন করবেন? কিন্তু এতোদিন তিনি তা করেননি এবং শিগগিরই ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর, তিনি আইনি দায়মুক্তি হারাবেন। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, তাতে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

ইসরাইলের পাবলিক প্রসিকিউটর নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক মামলায় তিনটি চার্জশিট দিয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে একটানা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী থাকা নেতানিয়াহু এ পর্যন্ত নিজের বিচারকাজকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়লেও রাজনীতি ছাড়ছেন না বলে জানিয়েছেন ইসরাইলের নেতানিয়াহু। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সংসদে দেয়া সবশেষ ভাষণে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন: লিকুদ পার্টির প্রধান হিসেবে আগামী নির্বাচনে আবারো প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হবো। ক্ষমতা হারালেও আমরা যেনো মাথা নত না করি। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা অব্যাহত রাখবো। এ শয়তান ও বিপজ্জনক বামপন্থী সরকার উৎখাতে নিত্য সংগ্রামে আমি নেতৃত্ব দেয়া অব্যাহত রাখবো আর ঈশ্বরের সাহায্যে আপনাদের ভাবনার চেয়েও দ্রুততম সময়ে এটা ঘটবে। নতুন সরকার ইসরাইলকে এক দিনের নেতৃত্ব দেয়ারও যোগ্য নয়! একজন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে জানতে হয় কীভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে না বলতে হয়! সূত্র: এপি, রয়টার্স ও ডব্লিউএমবিবি।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে