ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিজয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা ফিলিস্তিন!

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
আজ (শুক্রবার) স্থানীয় সময় রাত ২টা (বাংলাদেশে সময় ভোর ৫টা) থেকে গাজায় ইসরাইল ও ফিলিস্তিনী প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোর মাঝে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। চুক্তিতে দস্তখতকারী উভয় পক্ষই বলেছে – অস্ত্রবিরতি চুক্তির কোনো রকম লঙ্ঘন হলেই শক্ত জবাব দেয়া হবে। মধ্যস্থতাকারী মিসর জানিয়েছে, এ যুদ্ধবিরতি দু পক্ষ সমানভাবে বাস্তবায়ন করবে। অস্ত্রবিরতি পর্যবেক্ষণে দু জায়গায় দুটি প্রতিনিধিদল পাঠাবো আমরা।

যুদ্ধবিরোতি ঘোষণার পরপরই গাজার রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনী। ‘আল্লাহু আকবর’, ‘আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া’ শ্লোগান দেন তারা। মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা করা হয় দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বিজয় অর্জিত হয়েছে। এ সংঘাতে ইসরায়েল ও হামাস উভয়ে বিজয় দাবি করেছে।

ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বিবৃতিতে বলেছে: মিশরের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে আমরা রাজি। আর এ যুদ্ধবিরতি হবে পারিস্পরিক ও নিঃশর্ত।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্তজ বলেছেন: গাজায় হামলার মাধ্যমে অভূতপূর্ব সামরিক বিজয় অর্জিত হয়েছে।

হামাসের রাজনৈতিক শাখার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা খলীল আলা-হায়া উল্লসিত সমবেত জনগণের উদ্দেশে বলেন: ‘দখলদারদের বিরুদ্ধে এটি আনন্দজনক বিজয়। এটি বিজয়ের উচ্ছ্বাস।’ তিনি ইসরাইলি বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ী পুনর্নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন ।

গাজা নিয়ন্ত্রক হামাসের শীর্ষস্থানীয় নেতা ওসামা হামদান যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত লেবাননের আল-মায়াদিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে বলেছেন: প্রতিরোধ আন্দোলন মধ্যস্থতাকারীদের তরফ থেকে ‘গাজার ওপর আগ্রাসন বন্ধ হবে’ – এ নিশ্চিয়তা পেয়েছে। বায়তুল মুকাদ্দাস (জেরুজালেম) শহরের শেখ জাররাহ এলাকা ও আল-আকসা মসজিদ থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারও আমরা নিশ্চয়তা পেয়েছি। ইহুদিবাদী ইসরাইলের এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ফিলিস্তিনীদের বিজয় হয়েছে।

হামাসের পলিটিক্যাল ব্যুরোর প্রধানের গণমাধ্যম বিষয়ক উপদেষ্টা তাহের আন-নুনু গাজায় সাংবাদিকদের বলেছেন: গাজায় হামলা বন্ধের পাশাপাশি আল-আকসা মসজিদ ও শেখ জাররাহ এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নেয়ার যে প্রতিশ্রুতি ইসরাইল দিয়েছে, তা যতোক্ষণ তেল আবিব মনে চলবে – ততোক্ষণ হামাসও যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন করবে।

হামাস নেতা আলী বারাকেহ বলেছেন: ইসরাইল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও চুক্তির খুঁটিনাটি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা সতর্ক থাকবো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একাধিক টুইটে বলেছেন: এটি (যুদ্ধবিরতি) উন্নতির চরম সুযোগ সামনে এনেছে। আমার বিশ্বাস ফিলিস্তিনী ও ইসরাইলি নাগরিকরা সমান নিরাপত্তা পাওয়ার যোগ্য। সে সাথে তাদের স্বাধীনতা, সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্রে সমান অধিকারও রয়েছে। আমার প্রশাসন সেই লক্ষ্যে নীরবে কাজ করে চলেছে। সহিংসতার ফলে শিশুসহ অনেক বেসামরিক নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। তাদের সকলের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি – যারা তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করছি।

মিশরের সামরিক-জান্তা সিসি বাইডেনের প্রশংসা করে এক টুইটে বলেন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে শ্রদ্ধা ও প্রশংসা জ্ঞাপন করছি আমি। ইসরাইল ও হামাসের চলমান সহিংসতা নিরসনে মিশরের উদ্যোগকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।

তবে এ যুদ্ধবিরতি টিকবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ করেছেন হামাসের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কাউন্সিলের কর্মকর্তা বাসিম নাইম। তিনি বলেন: ফিলিস্তিনীদের জন্যে ন্যায়বিচার ছাড়া, ইসরাইলের আগ্রাসন ছাড়া আর জেরুজালেমে আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সহিংসতা বাদে – এ যুদ্ধবিরতি ভঙ্গুর হয়ে পড়তে পারে।

উল্লেখ্য, মাহে রমজানের শেষদিকে জর্দান নদীর পশ্চিম তীরের বায়তুল মুকাদ্দাস শহর ও আল-আকসা মসজিদের মুসল্লীদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সেনারা ভয়াবহ দমন অভিযান শুরু করলে, গাজা থেকে প্রতিরোধ যোদ্ধারা রকেট বর্ষণ শুরু করেন। তাদের দাবি ছিলো – ইসরাইল যেনো আল-আকসা মসজিদ এবং এর কাছের শেখ জাররাহ এলাকায় দমন অভিযান বন্ধ রাখে। পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাসের আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ইসরাইলি বাহিনীর পাশবিক হামলার জেরে ১১ দিন ধরে দখলদার ইসরাইল ও গাজা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পাল্টাপাল্টি হামলা চলে। গাজা থেকে ইসরাইলের দিকে মুসলধারে রকেট বর্ষণ শুরু হলে ১০ই মার্চ রাত থেকে অধিকৃত এ উপত্যকায় ফিলিস্তিনীদের স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় ইসরাইল।

ইসরাইলি হামলায় ৬৫ শিশু ও ৩৯ নারীসহ অন্তত ২৩২ ফিলিস্তিনী শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৯০০ জন। আর ইসরাইলে ফিলিস্তিনী প্রতিরোধ যোদ্ধাদের নিক্ষিপ্ত রকেটের আঘাতে ১৩ ইসরাইলি নিহত হয়েছে। বিশাল এলাকা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তুপে। গৃহহীন হয়ে পড়েছে এক লাখ ২০ হাজার মানুষ।

ইসরাইল বনাম ফিলিস্তিনের এবারের সংঘাতকে বলা হচ্ছে ২০১৪ সালের পর, সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত। ২০১৪ সালের সংঘাতে ২,২৫১ ফিলিস্তিনী শহীদ হন। আর ইসরাইলের পক্ষে নিহত হয় ৭৪ জন – যাদের অধিকাংশই সেনা। সূত্র: বিবিসি, এপি, এএফপি, আল-জাজিরা, টিআরটি ওয়ার্ল্ড, আনাদোলু, ডেইলি সাবাহ ও পার্সটুডে।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে