ইস্তাম্বুল খাল এরদোয়ানের ভূ-রাজনৈতিক হাতিয়ার!

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
সোমবার রাশিয়ার বৃহত্তম সংবাদ সংস্থা তাসের সাথে এক সাক্ষাৎকারে জিওর্গে ব্র্যাতিয়ানু ইউরোপীয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ জিওপলিটিকাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের কর্ণধার ও রোমানীয় বিশেষজ্ঞ কনস্তান্তিন কর্নানু বলেছেন যে,ইস্তাম্বুল খাল নির্মাণের সূচনা সম্পর্কে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো কৃষ্ণসাগরীয় দেশগুলোর পাশাপাশি ন্যাটো,ইইউ ও চীনের মতো এ অঞ্চলে আগ্রহী আধিপত্যবাদী প্রধান খেলোয়াড়দের সামনে ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কর্নানু আরো বলেন:তুরস্ককে আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক খেলায় অন্তর্ভুক্তির অবিচ্ছিন্ন প্রয়াসে ইস্তাম্বুল খাল এরদোয়ান শাসনের অস্ত্রাগারে একটি উপকরণ হয়ে উঠবে। আঞ্চলিক সুরক্ষা কাঠামোতে ভারসাম্যহীনতা এড়াতে খালের আইনি অবস্থানের জন্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার প্রয়োজন হবে। এ নতুন প্রকল্পে মন্ত্রাঁ কনভেনশনের রেজিম অফ দ্য স্ট্রেট্স সম্পর্কিত বিধান প্রয়োগ করা হলে, তা তুরস্ককে তার ভূ-রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা স্বার্থ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রধান খেলোয়াড়দের সাথে সরাসরি আলোচনার সুযোগ দেবে। আর মন্ত্রাঁ কনভেনশন প্রত্যাখ্যান করা হলে, তা কৃষ্ণসাগর অঞ্চলকে সামরিকীকরণের দিকে পরিচালিত করবে। কেননা, তখন ন্যাটো নৌবাহিনী যে কোনো সময় কৃষ্ণসাগরে যাত্রা করতে পারবে এবং ককেশীয় ও ইউক্রেনীয় কৌশলগত অঞ্চলে রাশিয়ার পক্ষে সমস্যা তৈরি করবে। একই সাথে কনভেনশনের বিধান রক্ষা করে এবং ইস্তাম্বুল খালকে এর এখতিয়ারের বাইরে নিয়ে যাওয়া হলে, তা তুরস্ককে পূর্ব ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণসাগরের পরিস্থিতি প্রভাবিত করতে সহায়তা করবে। ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনও তুরস্কের ভূ-রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করতে বাধ্য হবে। রাশিয়ার সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আঙ্কারার দোদুল্যমান অবস্থান এবং ইউক্রেনকে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত করতে কিয়েভ সরকারের সাথে সহযোগিতা এরদোয়ানের বর্ধিত কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষা বলয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসাবে তুরস্ককের রূপান্তরিত হওয়ার দক্ষতা প্রদর্শন করে। অতএব একটি নতুন হুমকি উদ্ভূত হচ্ছে – যা ক্রেমলিনে উদ্বেগ জাগাতে পারে এবং এ ধারণাকে শক্তিশালী করতে পারে যে, পশ্চিমা জগৎ রাশিয়াকে ঘিরে নতুন পরিকল্পনা তৈরি করছে। এ উদ্বেগগুলো অস্ত্রের লড়াই বাড়িয়ে দিতে এবং আঞ্চলিক সুরক্ষা কাঠামোতে পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

উল্লেখ্য, ইস্তাম্বুল খাল প্রকল্পটি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান প্রথম ২০১১ সালে ঘোষণা করেছিলেন। পানিপথটির কৃষ্ণসাগর ও মারমার সাগরকে সংযুক্ত করে পশ্চিম ইস্তাম্বুলের একটি নতুন বড় নৌ ধমনীতে পরিণত হওয়ার কথা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এরদোয়ান জোর দিয়ে বলেন যে,খালটি মন্ত্রাঁ কনভেনশনের আওতাভুক্ত হবে না। ১৯৩৬ সালে মন্ত্রাঁ শহরে গৃহীত এ কনভেনশনটি কেবলমাত্র বাণিজ্য জাহাজগুলোর জন্যে বসফরাস ও দার্দানেলেস অঞ্চলের মধ্য দিয়ে একটি টোলবিহীন পথ করে দিয়েছে। এদিকে,এটি অ-কৃষ্ণসাগরীয় দেশগুলোর জন্যে সামরিক জাহাজের ক্ষেত্রে শ্রেণীবিন্যাস ও স্থান-পরিবর্তন উল্লেখযোগ্যভাবে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে। সূত্র: তাস।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে