উইঘুর জনপ্রিয় মুসলিম লেখকের ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে চিন সরকার!

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
জনপ্রিয় উইঘুর লেখক আহতাম উমরকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে চিন সরকার। এবং তার লিখা বইগুলো পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে!

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথা গোপন সূত্রের বরাতে রেডিও ফ্রি এশিয়া জানিয়েছে, চাইল্ড অব দ্য ঈগল’ শিরোনামে ছোটগল্প সংকলনের লেখক আহতাম ওমর ২০১৭ সাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরে তাকে আটক দেখানো হয় এবং তার বইগুলো ধ্বংস করে ফেলা হয়। মাকিত কাউন্টির কাশগার এলাকা থেকে ২০১৭ সালের ১২ই মার্চ বড় ভাইয়ের ছেলেকে পড়াশোনার জন্যে মিসরে পাঠানো এবং তার কাছে অর্থ পাঠানোর অভিযোগে আহতাম ওমরকে তার বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।। এর এক মাস আগে তার ভাই আনোয়ার ওমর ও ভাতিজা উস্কান্দার ওমরকেও আটক করেছিলো চীনের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

উইঘুর অধ্যুষিত জিনজিয়াং থেকে ভ্রমণের জন্যে কর্তৃপক্ষ যে দেশগুলো কালো তালিকাভুক্ত করে রেখেছে, মিসর সেসবের একটি। ইসলামী মূল্যবোধ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকির কারণে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে চীন সরকার।

তদন্ত চলাকালে ওমরের সাহিত্যচর্চা বন্ধ করে দেয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী (স্বাধীনতাকামী) হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। গোপন শুনানির পর, ২০১৮ সালের শেষের দিক থেকেই তাকে উরামকির জেলে রাখা হয়। এবার ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হলো।

এদিকে, সবার সম্মতিতে চীনের উইঘুর নিপীড়নকে স্পষ্টতই গণহত্যা বলে ঘোষণা করেছেন বৃটেনের আইন প্রণেতারা। এতে বেইজিংয়ের উপর চাপ আরো বাড়িয়ে দিলো বৃটেন।

এ ঘটনাকে বৃটেনের সংসদে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন সাংসদ টরি স্যার আইইন ডানকান স্মিথ। তবে চীন বলেছে, বৃটেনের উচিত হবে নিজেদের ভুল সংশোধন করা।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, দশ লাখেরও বেশি উইঘুর মুসলিমকে চীন সরকার জিনজিয়াং প্রদেশের পুনর্বাসন কেন্দ্রে বন্দী রেখে নিপীড়ন করে আসছে মর্মে একাধিক অভিযোগ ও প্রমাণ রয়েছে। পশ্চিমা জগৎ ও মানবাধিকার কর্মীরা চীনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মানবাধিকার লঙ্ঘন, নির্যাতন, বাধ্যতামূলক শ্রম ও জাতিগত নিধনের অভিযোগ করে আসছে।

তবে ধারণা করা হচ্ছে, এর প্রভাব পড়বে চীন-বৃটেন সম্পর্কে। এদিকে, গত মাসেই চীনের শীর্ষস্থানীয় ৪ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটি। তবে চীন সরকার তাদের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং পশ্চিমা ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সূত্র: রেডিও ফ্রি এশিয়া, ডেইলি সাবাহ, দ্য গার্ডিয়ান ও বিবিসি।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে