উইঘুর নির্যাতনের ভয়াবহতা বোঝাতে গণহত্যা যথার্থ শব্দ নয়: ইকোনমিস্ট

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
গণতন্ত্র ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গণতন্ত্রকে স্পষ্ট সত্য বলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বৈরশাসন তার আসল রূপ আড়াল করতে সদা মিথ্যা বলবে এবং আপত্তি জানাবে। উইঘুরদের ওপর চীনের জুলুমকে কী বলা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এ বিষয়টা মনে রাখতে হবে।

ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও তার শেষ কর্মদিবসে একে ‘গণহত্যা’ অভিহিত করেন; যদিও বাইডেন চলতি সপ্তাহে চীনা প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রথম আলোচনায় শব্দটি ব্যবহার করেননি। তবে তার প্রশাসন তা বারবার করেছে।

দি ইকোনমিস্টের রিপোর্টে বলা হয়, চীনে উইঘুরদের ওপর অত্যাচার প্রচণ্ড ভয়াবহ! তারা সম্ভবত ১০ লাখ মানুষকে কারাবন্দী করে রেখেছে – যাকে ভুল করে ‘পেশাগত প্রশিক্ষণ-কেন্দ্র’ উল্লেখ করা হচ্ছে। তারা উইঘুর নারীদের জোর করে বন্ধ্যা করছে। তবে তাদের হত্যা করছে না।

গণহত্যার সংজ্ঞা মূলত জাতিসংঘের একটি ঘোষণার ওপর নির্ভর করে – যাতে বলা হয়েছে, এটা করতে আসলে সরাসরি প্রাণ সংহারের দরকার নেই। কোনো জাতি, নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠীকে ধ্বংস করতে চাইলে ‘জন্ম প্রতিরোধের চেষ্টা’ যথেষ্ট বলে বিবেচিত হবে। তবে এটা কতো বড় পরিসরে হলে গণহত্যা ধরা হবে তা উল্লেখ করা হয়নি; যেমন- সব নারীকে পদ্ধতিগতভাবে বন্ধ্যা করে গোটা একটি জাতি ধ্বংসের কল্পনা সম্ভব!

এখন পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘গণহত্যা’ লেবেলটি শুধু বিপুল মানুষ হত্যার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছে এবং এর মাঝেও প্রায়ই তাদের দ্বিধায় ভুগতে দেখা গেছে। আমেরিকা রুয়ান্ডার গণহত্যা শেষ না হওয়া তক এটাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেনি!

ইসলাম নয় চীনের প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের মতবাদ বিশ্বাস করতে বাধ্য করা হচ্ছে উইঘুর মুসলিমদের। চীনের উইঘুর মুসলিমদের বন্দী রাখতে তৈরি ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকা হতভাগ্যদের বরাতে এমনটি জানিয়েছে ইকোনমিস্ট। এটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উইঘুরদের ওপর চীনের এ নির্যাতন বন্ধে বৃটেনের মতো গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি এ ডিটেনশন ক্যাম্পগুলোকে সোভিয়েত শ্রমশিবির ‘গুলাগ’-এর মতো আখ্যা দিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়াও প্রতিবেদনে উইঘুরদের ডিটেনশন ক্যাম্পে নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা করা হয়েছে।

ইকোনমিস্টকে একজন উইঘুর বন্দী বলেন: ডিটেনশন ক্যাম্পের থাকা বন্দীদের জিনপিং-এর মতবাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করানো হচ্ছে।

জানা গেছে, জিনজিয়াংয়ে প্রায় এক কোটি উইঘুর মুসলিমের বসবাস। সেখানে অন্তত ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। বৃটেনসহ একাধিক দেশ উইঘুরদের সঙ্গে চীনের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। অবশ্য চীন বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

১৯৪০এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নে কুখ্যাত নাস্তিক ও জালেম শাসক এবং কমিউনিস্টদের পালের অন্যতম গোদা স্টালিনের আমলে লাখ লাখ লোককে বন্দী করে পাঠানো হয়েছিলো শ্রম শিবিরে। সেখানে তাদেরকে মানবেতর পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। এগুলোকে বলা হতো ‘গুলাগ’। এখানে মৃত্যু হয়েছিলো দশ লাখেরও বেশি বন্দীর-যার কারণ ছিলো অনাহার, রোগ এবং অতিরিক্ত পরিশ্রমজনিত ক্লান্তি। সূত্র: ইকোনোমিস্ট ও অন্যান্য।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে