উইঘুর বন্দীশিবিরে প্রতিনিধি দল পাঠাতে চায় জাতিসংঘ!

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
উইঘুর মুসলিমদের অবস্থা দেখতে চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে প্রতিনিধিদল পাঠাতে চায় জাতিসংঘ। আমেরিকা ও কানাডার পর, এবার উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে চীনকে চাপ দিলো জাতিসংঘ।

গতকাল (মঙ্গলবার) জাতিসংঘের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান জোসেপ বরেল বলেছেন: আমরা চাই – মিশেলের নেতৃত্বে একটি দল শিনজিয়াং প্রদেশে যাক। চীনের উচিত উইঘুর অধ্যুষিত শিনজিয়াং প্রদেশে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্তকারী দলকে ঢুকতে দেয়া। সেখানে কী চলছে, তা ঐ দল খতিয়ে দেখতে চায়।

চীন অবশ্য এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

জাতিসংঘে মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেট বহুদিন ধরেই একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে চীনে যেতে চাইছেন। সেখানে শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের সঙ্গে চীন ঠিক কী ব্যবহার করছে, তা দেখে একটি রিপোর্ট তৈরি করতে চাইছেন তিনি। কিন্তু চীন এখনো এতে রাজি হয়নি।

সোমবার কানাডার সংসদে চীন ও উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে সবার সম্মতিতে। তাতে বলা হয়েছে – চীন ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে।

ট্রাম্পের ক্ষমতার শেষ পর্যায়ে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও একই কথা বলেছিলেন। তিনিই প্রথম চীনের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনেন। তার বক্তব্য ছিলো – উইঘুর মুসলিমদের গণহত্যা করছে চীন। এর জেরে পম্পেও এবং মার্কিন বেশ ক-জন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে চীন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বক্তব্য – চীন শিনজিয়াং প্রদেশে প্রায় ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে বন্দী করে রেখেছে। তাদের ধর্মের ও সন্তান উৎপাদনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে কার্যত দাসের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে; যদিও এসব অভিযোগ চীন কখনই মানতে চায়নি।

সম্প্রতি উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতেও একটি পিটিশন জমা পড়ে। কিন্তু বিচারপতিরা সেই আবেদন গ্রহণ করেননি! তারা জানিয়েছিলেন চীন যেহেতু আদালতে আসবে না – সেহেতু বিষয়টির বিচার করা সম্ভব নয়। এখন দেখার বিষয় হচ্ছে – আন্তর্জাতিক চাপে উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে চীন কোনো পদক্ষেপ নেয় কিনা। সূত্র: ডয়েচে ভেলে।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে