এভার গ্রীভেনের ভারতীয় নাবিকদের কঠিন সাজা হতে পারে।

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
গত মাসে মালবাহী কন্টেনার নিয়ে মালয়শিয়ার ‘তানজুং পেলেপাস’ বন্দর থেকে নেদারল্যান্ডসের ‘রোটারড্যাম’ বন্দরে যেতে গিয়ে ২৩ তারিখে সকাল ৭টা ৪০ নাগাদ মিশরের ‘মেনশিয়েট রুগোলা’ গ্রামের কাছে বিশ্বের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক পথ সুয়েজ খালে আড়াআড়িভাবে আটকে যাওয়া ২০১৮ সালে নির্মিত জাপানি সংস্থা ‘শোই কিসেন কৈশা’র মালিকানাধীন তাইওয়ানি ‘এভারগ্রীন মেরিন’ কোম্পানির পরিচালিত পানামায় নিবন্ধিত প্রায় ৪০০ মিটার লম্বা, প্রায় ৫৯ মিটার চওড়া এবং প্রায় ২ লাখ ২১ হাজার টন ধারণে সক্ষম সবচেয়ে বড় মালবাহী জাহাজ ‘এভার গ্রীভেন’ ২৯ তারিখে ভোররাতে মুক্ত হয়। ফলে, এ রুটে প্রায় সপ্তাহ খানেক আটকা তিনশ’র বেশি জাহাজও যানজট মুক্ত হয়। কিন্তু এতে কর্তৃপক্ষের যে ক্ষতি হয়েছে, তার মূল্য দিতে হতে পারে জাহাজটির নাবিকদের। খাল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আইনে কঠিন সাজার মুখে পড়তে পারেন তারা।

জাহাজটির কাপ্তান ও নাবিকসহ ২৫ জনের সবাই ভারতীয়। তাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে বেশির ভাগই ছিলেন দাক্ষিণাত্যের তেলেঙ্গানা, কেরালা বা তামিলনাডুর বাসিন্দা। কাপ্তান নিজেও দক্ষিণ ভারতীয়।

ভারতের জাহাজ চলাচল শিল্প সংশ্লিষ্টদের অনেকেই মনে করছেন, সুয়েজের ঐ দুর্ঘটনার জেরে ভারতীয় নাবিকদের ফৌজদারি চার্জের মুখোমুখি হতে হবে। ইতোমধ্যেই ঐ ২৫ জন নাবিককে সুয়েজে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ না হওয়া তক তাদের দেশ ছাড়ার ওপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

ভারতে মার্চেন্ট নেভি অফিসারদের বৃহত্তম সংগঠন ‘দ্য মেরিটাইম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া’র একটি পদস্থ বলেছেন: আসলে সুয়েজ ক্যানাল অথরিটির নিজস্ব কিছু আইনকানুন আছে – যা আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের চেয়েও অনেক বেশি কড়া! যেমন ধরুন, যখনই কোনো জাহাজ ঐ খালে প্রবেশ করবে, তার আগে থেকেই অথরিটির নিজস্ব দুজন পাইলট জাহাজে উঠে দায়িত্ব নেবেন এবং পথ দেখিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। কিন্তু তারপরও জাহাজ কোনো দুর্ঘটনায় পড়লে, সেক্ষেত্রে তার দায় জাহাজের কাপ্তেনের ওপরেই বর্তাবে; ঐ পাইলটদের ওপরে নয়!

ভারতের শিপিং ইন্ডাস্ট্রি আশঙ্কা করছে, এ কারণেই দুর্ঘটনার দায় শেষ পর্যন্ত ভারতীয় নাবিকদের ওপরেই পড়ার একটা আশংকা রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি ও অন্যান্য।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে