খাশোগী হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত সউদী যুবরাজ, মার্কিন রিপোর্টে চরম চাঞ্চল্য!

0

রিপোর্টার সাইফুল ইসলাম।
আওয়ার টাইমস্ নিউজ: প্রথম থেকেই সাংবাদিক জামাল খাশোগীর খুনের ব্যাপারে আঙুল উঠছিলো তার দিকে৷ কিন্তু সউদী রাজ পরিবার বা যুবরাজ মুহম্মদ বিন সালমানের তরফ থেকে বারবার সব অভিযোগ অস্বীকার করা হচ্ছিলো৷ তবে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যে বিন সলমনের যোগ রয়েছে, তা প্রায় নিশ্চিত করেই এ সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা।

আমেরিকার ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্সের দপ্তর থেকে শুক্রবারে প্রকাশিত ঐ রিপোর্টে বলা হয়েছে, সব ধরনের গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, খাশোগীকে আটক বা হত্যা করতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অভিযান চালানোর অনুমোদন দেন সউদী যুবরাজ মুহম্মদ বিন সালমান।

২০১৯ সালে জামাল খাশোগীর হত্যার বর্ষপূর্তিতে প্রথমবার এ ঘটনার প্রেক্ষিতে নিরবতা ভেঙে বিন সালমান এ হত্যার দায় পরোক্ষভাবে নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন৷ তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, তিনি যেহেতু যুবরাজ, সেহেতু এ খুনের দায় তারও৷ মার্কিন ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের প্রকাশিত রিপোর্টে এদিন বলা হয়, তাঁকে হত্যায় সউদী আরবের কার্যত শাসক মুহম্মদ বিন সালমান হুকুম দিয়েছেন। সিআইএ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এ রিপোর্ট প্রকাশের আগেই জো বাইডেন সউদী রাজাকে ফোন করেছিলেন।

উল্লেখ্য, আমেরিকা ও সউদী আরব বন্ধু রাষ্ট্র হলেও এ ঘটনা তাদের মাঝে কিছুটা হলেও দূরত্ব তৈরি করেছিলো। ২০১৮ সালে বেশ কিছুদিন নিখোঁজ থাকার পর উদ্ধার হয় খাশোগীর ক্ষতবিক্ষত লাশ৷ পশ্চিমা দুনিয়ার অভিযোগ ছিলো সউদী রাজপরিবারের কলকাঠিতে ঘটেছে এটা৷ কিন্তু সেই ঘটনার পর থেকে মুখে কুলুপ এঁটেছিলো সউদী রাজ পরিবার৷ সরকার বিবৃতি জারি করে দাবি করেছিলো – এ ঘটনার সাথে কোনোভাবেই যুক্ত নয় রাজ পরিবার৷

সউদী রাজত্বের সমালোচক ছিলেন সাংবাদিক জামাল খাশোগী৷ ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-র কলামনিস্ট ছিলেন তিনি৷ ২০১৮ সালে ২রা অক্টোবর ইস্তান্বুলের সউদী দূতাবাসে গিয়েছিলেন তিনি৷ সেদিনই নিখোঁজ হন তিনি৷ সউদী সরকার ১৭ দিন ধরে দাবি করেছিলো – তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই৷ অবশেষে আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে ১৯শে অক্টোবর স্বীকার করে যে, খাশোগীকে সউদী দূতাবাসের ভেতর হত্যা করা হয়েছে৷ হত্যার অভিযোগে ১১ জন সউদী কর্মকর্তাকে আটক করা হয়৷ কিন্তু কয়েকজনেরই শুনানি হয়৷

এদিকে, মার্কিন ঐ গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে সউদী আরব। দেশটির আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সউদী প্রেস এজেন্সিকে দেয়া বিবৃতিতে আমেরিকার গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে ‘নেতিবাচক, মিথ্যা ও অগ্রণযোগ্য’ হিসেবে অভিহিত করে বলছে, সৌউদী নেতৃত্ব সম্বন্ধীয় ঐ প্রতিবেদনে তুলে ধরা নেতিবাচক, মিথ্যা ও অগ্রহণযোগ্য মূল্যায়ন সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছে সৌউদী আরব এবং প্রতিবেদনে ভুল তথ্য ও ভুল উপসংহার টানা হয়েছে।

ফলে, এ মুহূর্তে সউদী ও বাইডেন প্রশাসনের মাঝে চলছে তীব্র উত্তেজনা। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা এটা বেশি দূর এগুবে না। অল্পেই শেষ হয়ে যাবে। সাংবাদিক জামাল খাশোগী হত্যায় সউদী যুবরাজ মুহম্মদ বিন সালমানের অনুমোদন আছে – গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন তথ্য দেয়ার পর, বাইডেন প্রশাসন থেকে সউদী আরবের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আসে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের পরপর এ বিষয়ে তেমন কিছুই বলেননি ট্রাম্পের উত্তরসূরি। অথচ ২০১৯ সালের নভেম্বরে বাইডেন বলেছিলেন: ‘খাশোগী হত্যায় জড়িতদের আমি শাস্তি দিতে চাই।’ সিএনএন লিখেছে, প্রার্থী থাকার সময় এ ধরনের কথা বলা সহজ হলেও প্রেসিডেন্টের পদে থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন।

বিশ্ব রাজনীতিতে সউদী আরবকে আমেরিকা সদা কৌশলগত মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে। ট্রাম্পের আমলে দু দেশের সম্পর্ক আরো ভালো হয়। সেই দিনগুলোতে সাবেক প্রেসিডেন্ট গোয়েন্দা প্রতিবেদন চেপে যান। রয়টার্স একটি প্রতিবেদনে বলছে, বাইডেন আপাতত কোনো শাস্তির কথা না বললেও ভবিষ্যতে কিছু একটা পদক্ষেপের বিবেচনা করে থাকতে পারেন। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন ও ওয়ান ইন্ডিয়া বেঙ্গলী।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে