গাজায় ইসরাইল ব্যর্থ! এখনই যুদ্ধবিরতি করতে হবে: দৈনিক হারেৎজ।

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
আনাদোলু এজেন্সি পাশ্চাত্যের কয়েকটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা গাজায় আগ্রাসন বন্ধে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। উনি জবাব দিয়েছেন: ‘গাজায় লক্ষ্য অর্জনে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর আরো দু থেকে তিন দিন দরকার।’ মঙ্গলবার উনি একটি বিমান ঘাঁটিতে বলেছেন: ‘যতোদিন দরকার – ততোদিন গাজায় বিমান হামলা চলবে।’

বিবিসি জানিয়েছে, গতকাল (বুধবার) নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন: ইসরাইলের নাগরিক, আপনাদের জন্যে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত এ অভিযান চালিয়ে যেতে আমি প্রতিশ্রুত।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসন অব্যাহত থাকার কয়েকটি কারণ রয়েছে।

প্রথমত, ইসরাইল এক সপ্তাহেরও বেশি সময় সময় ধরে আকাশ, স্থল ও সমুদ্র পথে গাজার ওপর ভয়াবহ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখনো তারা কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে, তাদের টার্গেট করা স্থাপনাগুলো এখনো ধ্বংস করতে পারেনি। ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাবে গাজার প্রতিরোধ যোদ্ধারা ইসরাইলে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। আর এ থেকে বোঝা যায় – ইসরাইল ফিলিস্তিনীদেরকে দুর্বল তো করতে পারেইনি, এমনকি সামান্যতম লক্ষ্যও অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থায় ইসরাইল সম্ভবত কিছুটা হলেও সাফল্য দেখিয়ে মানে মানে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে যেনো মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে পারে। এর মাধ্যমে ইসরাইলের ভেতরে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে বেরোনোর চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু, অর্থাৎ পুরো বিষয়টিকে তিনি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে ব্যবহারের চেষ্টা করছেন।

দ্বিতীয়ত, যেসব আরব দেশ ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে, তাদের সামনে তেলআবিবের মান-ইজ্জত রক্ষার প্রশ্ন। কেননা, ঐসব দেশের সরকারগুলো দখলদার ইসরাইলকে তাদের রক্ষক ও সমর্থক বলে মনে করে যেনো নিজ দেশের জনগণের তরফ থেকে কোনো হুমকি বা বাইরে থেকে কোনো চাপ এলে, ইসরাইলের সহযোগিতায় তা মোকাবেলা করা যায়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে – খোদ ইসরাইলই ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মোকাবেলা করতে হিমশিম খাচ্ছে। তারা নজিরবিহীন ব্যর্থতার স্বাদ নিতে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে ইসরাইলের বিখ্যাত দৈনিক হারেৎজ মন্তব্য করেছে, গাজায় ইসরাইল ব্যর্থ হয়েছে! এখনই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। দৈনিকটির কয়েকটি নিবন্ধে বলা হয়েছে, ইসরাইলের সেনাবাহিনীর সব কৌশল ব্যর্থ হয়ে গেছে!

দৈনিকটির সম্পাদক আলুফ বেন লিখেছেন: আমাদের প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন – গাজায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও কূটনীতি ব্যর্থ হয়েছে! গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর সবচেয়ে বড় পরাজয় হয়েছে এবার এবং এ যুদ্ধের কোনো প্রয়োজনই ছিলো না। লেবাননের সাথে দ্বিতীয় যুদ্ধ এবং গাজায় এর আগের যুদ্ধগুলোর চেয়ে এবারের যুদ্ধে পরাজয়ের স্বাদ বেশি তিক্ত! ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর ব্যর্থতা ও পরাজয় নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রয়োজন! গাজায় ভরাডুবির পর, সামরিক বাহিনীতে সংস্কার আনা জরুরি হয়ে পড়েছে! গাজা যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছে বলে ইসরাইলি নেতারা যে প্রচারণা চালাচ্ছে, তা ভিত্তিহীন! ইসরাইলের নেতাদের অবিলম্বে হামলা বন্ধ করে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে!

পত্রিকাটির আরও কয়েকটি নিবন্ধে একই দাবির পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। সম্পাদকীয়তে আরো বলা হয়েছে, গাজা যুদ্ধে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতির ক্ষেত্রে দুর্বলতা, যুদ্ধ পরিচালনায় অদক্ষতা এবং মন্ত্রিসভার অক্ষমতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে!

অবশ্য প্রথম থেকেই মার্কিন সরকার যুদ্ধ অবসানের কথা বললেও ইহুদি লবিংয়ের প্রচণ্ড চাপে বাইডেন প্রশাসন ইসরাইলকে সমর্থন দিয়ে বক্তব্য রাখে। এমনকি প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইসরাইলের কাছে ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনও দিয়েছে।

তৃতীয়ত, ইসরাইল ফিলিস্তিনীদের শক্তি যাচাই করতে চায়। ওরা চায় – ফিলিস্তিনীরা তাদের সর্বোচ্চ শক্তি প্রদর্শন করুক। কেননা, ইসরাইলিদের আশঙ্কা ফিলিস্তিনীদের হাতে এখনো শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

চতুর্থত, ইসরাইল ব্যাপক হামলা চালিয়ে ফিলিস্তিনীদের সকল অর্থনৈতিক অবকাঠামো এবং পানি ও বিদ্যুতের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দেয়ার চেষ্টা করছে। আর এভাবে তারা গাজার জনগণের কাছে এ দুরবস্থার দায় ফিলিস্তিনী মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, বিবিসি ও পার্সটুডে।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে