চিনের বন্দীশিবিরে মুসলিম নারীদের রাতভর ভয়াবহ গণধর্ষণ!

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
চীনের জিনজিয়ানে তথাকথিত ‘পুনঃশিক্ষণ’ শিবির নামে সংখ্যালঘু ১০ লাখের বেশি উইঘুর নারী-পুরুষকে বন্দী করে ব্যাপক নিপীড়নের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিরাতেই সেখান থেকে বেছে উইঘুর নারীদেরকে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই – এমন কোনো কক্ষে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দু থেকে তিনজন পালাক্রমে তাদের ধর্ষণ করে। সেখানকার ব্যবস্থা এতোই কঠোর যে, শিবিরের ভেতরে কী ঘটে, তার খবরাখবর তেমন বাইরে আসে না।

উইঘুর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি হামলার জেরে ২০১৪ সালে জিনজিয়ান সফর করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা যায়, এরপরই উনি স্থানীয় কর্মকর্তাদের উইঘুরদের ব্যাপারে চরম নীতি গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ – চীন সরকার ধীরে ধীরে উইঘুরদের ধর্মীয়সহ অন্যান্য স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছে। জিনজিয়ানের শিবিরে উইঘুর নর-নারীকে সদা কড়া নজরদারিতে রাখা হয়। শিবিরে তাদের ওপর নানা নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হয়। সেখানে তাদের প্রজনন ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হচ্ছে। জোর করে তাদের বিশেষ মতবাদ শেখানো হচ্ছে।

মার্কিন সরকারের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয় – উইঘুরদের সঙ্গে চীনা কর্তৃপক্ষের আচরণ গণহত্যার শামিল। চীন দাবি করছে, উইঘুরদের গণহারে আটক ও জোর করে তাদের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করার অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।

জিনজিয়ানের শিবিরে বন্দীদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা জানতে পারা অনেকটা বিরল ঘটনা। তবে ওখানকার সাবেক কিছু বন্দী ও রক্ষীর অভিজ্ঞতা জানতে পেরেছে বিবিসি। তারা ঐ শিবিরগুলোতে ‘পদ্ধতিগত’ গণধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিবরণ দিয়েছেন। তাদের একজন তুরসুনায়ে জিয়াউদুন। তিনি আগেও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন কাজাখস্তান থেকে। সেখানে তিনি চীনে ফেরতের ঝুঁকিতে ছিলেন।

ভুক্তভোগিনী জিয়াউদুন বলেন: প্রতি রাতেই শিবিরের সেল থেকে নারীদের নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিশেষ কক্ষে নিয়ে এক বা একাধিক মাস্ক পরা চীনা ব্যক্তি তাদের ধর্ষণ করে। আমি একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয়েছি। প্রতিবারই আমাকে দু বা তিন ব্যক্তি ধর্ষণ করেছে। শিবির থেকে ছাড়া পাওয়ার পর, আমি নিজেকে আসলে ‘মৃত’ বলে মনে করছি। ধর্ষণের শিকার হয়ে আমি মানসিক ও শারীরিকভাবে পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছি। চীনা কর্তৃপক্ষ বলে – শিবির থেকে লোকজনকে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু যারাই শিবির থেকে ছাড়া পান, তারা আসলে শেষ হয়ে যান। চীনা কর্তৃপক্ষের লক্ষ্যই হলো – উইঘুরদের শেষ করে দেয়া। সূত্র: বিবিসি।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে