চিনের একটি স্কুলে নামাজ বা নবীজীর কথা বললেই বন্দীশালায় পাঠিয়ে দেয়া হয়!

0

রিপোর্টার: সাইফুল ইসলাম

জুমরাত দাওয়ুতের তিন সন্তানের জন্যে শুক্রবারটি ছিলো ভয়ানক। এদিনে চীনের তদন্ত কর্মকর্তারা শিনজিয়াংয়ের উরুমকির স্কুলে শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞেস করেন – ঘরে তাদের বাবা-মা নামাজ পড়েছেন কিনা বা সালাম বিনিময় কিংবা ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে কোনো কথা বলা হয়েছে কিনা? জবাবে কেউ ‘হাঁ’ বললে – পরিবারটিকে বন্দীশিবিরে’ পাঠিয়ে দেয়া হয়। বৃটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জুমরাতের ভাষ্য মতে, উইঘুর মুসলিমদের কড়া নজরদারীতে রাখা হয়। তার সন্তানদেরকে তাদের মতোই ভুক্তভোগী হতে হয়েছে। প্রতি সোমবার স্কুলে নয়, বরং তিনি সন্তানদের ফ্ল্যাটের ব্লকের উঠোনে নিয়ে যেতেন চীনের পতাকা উত্তোলন দেখতে। এটি ছিলো বাধ্যতামূলক – যা তীব্র শীতেই হোক বা কড়া রোদে হোক। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের উৎফুল্ল থাকাও বাধ্যতামূলক। তিনি সন্তানদের নিয়ে গত বছর আমেরিকায় পালিয়ে আসার আগে চীনের নতুন এক বন্দীশালায় দু মাসের মতো ছিলেন। যেখানে আরো ১০ লাখের মতো মানুষ রয়েছে – যাদের অধিকাংশই উইঘুর।

ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, জিনজিয়াংয়ের বন্দীশিবিরে গত তিন বছর ধরে অন্তত ১০ লাখ উইঘুর যে দুর্দশায় রয়েছেন, তা ব্যক্তি পর্যায়ে প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব। এছাড়া, ঐ অঞ্চলটি পরিদর্শনে যাওয়া বিদেশী সাংবাদিকদের কড়া নজরদারীতে রাখা হয়।

গত মাসে অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের (এএসপিআই) রিপোর্টে দাবি করা হয় – শিনজিয়াং প্রদেশের হাজার হাজার মসজিদ পুরোপুরি গুঁড়িয়ে বা আংশিক ভেঙ্গে দিয়েছে চীন। সেসঙ্গে প্রায় ১০ লাখ মুসলিমকে জোর করে তাদের ধর্মীয় আমল ত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। সূত্র: ইকোনোমিস্ট ও গার্ডিয়ান।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে