ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন স্থগিতের আহ্বান জাতিসংঘের!

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাগারে আটক প্রতিবাদী লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবাধিকারের প্রতি বাংলাদেশের বাধ্যবাধকতা মনে করিয়ে দিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাসেলেট সোমবার বলেছেন: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাগারে ছিলেন আহমেদ। সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ আইন স্থগিতের প্রয়োজন। এ আইনের কারণে যারা কারাগারে রয়েছেন, তাদের ছেড়ে দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। অবশ্যই সবাইকে নিজের স্বাধীন মতামত তুলে ধরার সুযোগ দিতে হবে। মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে সরকারকে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। সেসঙ্গে কারাগারে অন্যান্য বন্দীর সাথে অসদাচরণের যে অভিযোগ এসেছে, তারও দ্রুত তদন্ত হওয়া উচিত। মুশতাকের মৃত্যুতে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়ায় রুহুল আমিন নামে একজনকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকারের সমালোচনার শাস্তি দিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুর্বলভাবে সংজ্ঞায়িত বিধানগুলোর ব্যাপারে জাতিসংঘের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ জানিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। জরুরি ভিত্তিতে আইনটির প্রয়োগ স্থগিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে এর বিধানগুলো পর্যালোচনা করা দরকার। এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলাপে আমি ও আমার দপ্তর প্রস্তুত রয়েছি।

মুশতাককে গত বছর মে’তে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয়। বিনা বিচারে ন’ মাস তিনি কারাবন্দী ছিলেন। বারবার তার জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ২৫শে ফেব্রুয়ারি কারাগারেই মারা যান তিনি। একই অভিযোগে এখন আটক রয়েছেন কার্টুনিস্ট আহমেদ কিশোর। তার ওপর নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে ব্যাসেলেট গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন: অভিযোগের তাৎক্ষণিক ও কার্যকর তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে কিশোরের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টভুক্ত (ওইসিডি) যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৩টি দেশের ঢাকাস্থ রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণ এক যৌথ বিবৃতি আইনি হেফাজতে মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ধারাগুলো এবং এর প্রয়োগের ব্যাপারে এ ১৩ দেশের সরকারেরও ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে।

তবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাগারে আটক প্রতিবাদী লেখকের মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক মহলের এমন উদ্বেগে নাখোশ হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ একে আব্দুল মোমেন। গতকাল আমেরিকা থেকে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে লেখক মুশতাকের মৃত্যু নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন: যুক্তরাষ্ট্রে অনেক লোক জেলখানায় মারা গেলেও তা নিয়ে কোনো কথা হয় না। অথচ বাংলাদেশের বেলায় উদ্বেগ দেখায় বিদেশীরা। আমাদের দেশ একটা তাজ্জবের দেশ। একজন মারা গেলেই, তিনি কী কারণে মারা গেলেন, আমরা কিন্তু জানি না। মারা গেলেই তখন এটা নিয়ে বিদেশীরা খুব উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দেশের লোক উদ্বেগ প্রকাশ করুক, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু বিদেশের লোক এ ব্যাপারে খুব উদ্বেগ প্রকাশ করেন, এটা একটা তাজ্জবের জায়গা।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দী মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর পর, দেশজুড়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মাঝে শনিবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন: ডিজিটাল বাংলাদেশে সবাইকে সুরক্ষিত রাখতেই এ ডিজিটাল আইন।

এদিকে, কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে আজও বিক্ষোভ মিছিল করেছে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদল। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গুলশান-১ থেকে তিতুমীর কলেজ অভিমুখী মিছিলে অংশ নেন তাদের নেতাকর্মীরা। মিছিলের পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। এর আগে, ২৮শে ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লেখক মুশতাক আহমেদকে হত্যার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের আয়োজিত শান্তিপূর্ণ সমাবেশ পুলিশ হামলায় পণ্ড হয়ে যায়। এছাড়া, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি, কারাগারে প্রতিবাদী লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু এবং প্রতিবাদী ছাত্রদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। সূত্র: পার্সটুডে

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে