তথাকথিত নারী সুরক্ষার চুক্তি থেকে বের হলো তুরস্ক!

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
গেল শুক্রবার এক প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রি জারি করে নারীর প্রতি সহিংসতা মোকাবিলা ও সুরক্ষার জন্যে বাধ্যতামূলক নারীবাদী একটি চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেছে তুরস্ক। আর এ ঘোষণাকে বড় জয় হিসেবে দেখছে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন একে পার্টি। তবে এর বিরোধিতা করছে ইসলামবিদ্বেষী কামালপন্থী বিরোধী দল সিএইচপি।

পারিবারিক ও অন্যান্য সহিংসতা থেকে নারীদের সুরক্ষায় দস্তখতকারী দেশগুলোকে বাধ্য করতে ২০১১ সালে সই হয় ইস্তাম্বুল কনভেনশন। বিশ্বে এ ধরনের চুক্তি এটাই প্রথম। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়াও ৪৫টি দেশ সই করে। ঐ দেশগুলো পারিবারিক সহিংসতা ও বৈবাহিক ধর্ষণসহ নানা সহিংসতা থেকে নারীদের সুরক্ষার নামে নারীবাদী এ আইন প্রণয়ন করে।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন একে পার্টি গত বছর এ চুক্তিটি থেকে বেরুনোর বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছিলা। তবে তখনই নারীর প্রতি সহিংসতা কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় সেকুলার নারীবাদীদের সাথে।

তুরস্কের পরিবার, শ্রম ও সামাজিক নীতি বিষয়ক মন্ত্রী জেহরা জুমরাত এক টুইটে বলেন: নারী অধিকারের নিশ্চয়তা আমাদের আইনে – বিশেষ করে, আমাদের সংবিধানে রয়েছে। আমাদের বিচার ব্যবস্থা বহুমাত্রিক এবং প্রয়োজন পড়লে, নতুন আইন প্রণয়নে যথেষ্ট কঠোর।

ইসলামপন্থীদের দাবি – ঐ চুক্তির কারণে পারিবারিক ঐক্য নষ্ট হচ্ছে, বিচ্ছেদ উৎসাহিত হচ্ছে আর এতে বর্ণিত সমতার নীতি ব্যবহার করে সমকামী সম্প্রদায় সমাজে আরো গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।

অন্যদিকে, সিএইচপি’র ডেপুটি চেয়ারম্যান গোকসে গোকেন এক টুইটে লিখেছেন: চুক্তি থেকে বেরুনোর অর্থ হলো – নারীদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক করে রাখা আর তাদের খুন হতে দেয়া।

উল্লেখ্য, তুরস্কে নারীহত্যা ও পারিবারিক সহিংসতা মারাত্মক সমস্যা। নারীর প্রতি সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। এ মাসেও তিনি বলেছেন: নারীর প্রতি সহিংসতা থামাতে কাজ করবে তার সরকার।

তবে সমালোচকেরা বলছেন: নারীহত্যা ও পারিবারিক সহিংসতা থামাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি এরদোয়ান সরকার। নারীহত্যার সরকারি কোনো পরিসংখ্যান রাখে না তুরস্ক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মোতাবেক, তুরস্কের ৩৮% নারী তার সঙ্গীর কাছ থেকে সহিংসতার শিকার হয়। অথচ বাকি ইউরোপে এর পরিমাণ ২৫%!

কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঐ তথ্য প্রমাণ করেছে যে, নারীবাদী ঐ চুক্তিটি নারীদের সহিংসতা থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা ও অন্যান্য।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে