তানজানিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট ‘মা সামিয়া’ সম্পর্কে!

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
২০১৫ সালে ‘চামা চা মাপিনডুজি’ (সিসিএম) দলের অনেক শীর্ষ নেতাকে পেছনে ফেলে খৃষ্টানপ্রধান দেশ তানজানিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে মনোনীতা হন মুসলমান নারী সামিয়া সুলুহু হাসান (৬১) এতে অবাক হয়েছিলেন অনেকেই। সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁকেই ঘোষণা করতে হয়েছে প্রেসিডেন্ট জন মাগুফুলির মৃত্যুর খবর। সংবিধান মোতাবেক, তাঁর কাঁধেই বর্তেছে সরকারের চলতি মেয়াদের বাকি সময়ের দায়িত্ব।

গত বছর দ্বিতীয়বারের মত নির্বাচিত প্রথমা ভাইস প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসান এ মুহূর্তে কেবল তানজানিয়ারই নন, বরং আফ্রিকার দেশগুলোর মাঝে একমাত্র নারী রাষ্ট্রপ্রধান! ভালোবেসে দেশবাসী তাঁকে নাম দিয়েছে ‘মা সামিয়া।

উল্লেখ্য, আফ্রিকায় আরেকজন নারী প্রেসিডেন্ট আছেন বটেন। তিনি ইথিওপিয়ার প্রেসিডেন্ট সাহলে-ওয়ার্ক জাউদি। তবে তাঁর পদ আলঙ্কারিক। সরকারি কাঠামোতে বা দেশের নীতি নির্ধারণে তার বিশেষ কোনো ভূমিকা নেই। কেননা, সেখানকার সরকার পদ্ধতি সংসদীয়। তাই, সেখানে প্রধানমন্ত্রীই মুখ্য শাসক। তবে সামিয়াকে শীর্ষ অবস্থানে থেকে পালন করতে হবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব। বিবিসি এক প্রতিবেদনে লিখেছে, নারী হয়ে দায়িত্বভার নিতে নয়, বরং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বশীল আচরণের কারণেই ‘মা সামিয়া’ সম্বোধনের সম্মান মিলেছে তাঁর।

মাগুফুলির সহযোগী (রানিংমেট) হিসেবে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে তানজানিয়ার ভাইস-প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান সামিয়া। গত বছর এক ‘বিতর্কিত’ নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে মাগুফুলি-সামিয়া জুটি। সামিয়াকে দক্ষ-নেতৃত্বগুণসম্পন্না নেত্রী বলে মনে করেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের সাবেক সহকর্মী ও সাংসদ জানুয়ারি মাকাম্বা। তিনি বলেন: আমি খুব কাছে থেকে তাঁর নৈতিকতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও স্থিরতা দেখেছি। তিনি একজন দক্ষ নেত্রী। রাজনৈতিক দক্ষতার মাপকাঠিতে তানজানিয়ায় এখনও তাঁর যথার্থ মূল্যায়ন হয়নি।

বিবিসি বলছে, সামিয়া প্রেসিডেন্ট পদের ভার নেয়ার পর সরকারের নীতি কেমন হবে, তা এখনও অনেকের কাছে অস্পষ্ট। করোনাভাইরাস মহামারী নিয়ন্ত্রণে মাগুফুলির ভূমিকায় অনেকেই হতাশ ছিলেন। এখন সামিয়া আগের নেতৃত্বের পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন নাকি নতুন নীতি গ্রহণ করবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এমনিতে সদ্য প্রয়াত মাগুফুলির প্রতি আনুগত্য থাকলেও নিজের মত প্রকাশে কখনই পিছপা হননি সামিয়া। ২০০৫ সালে জানজিবারের মন্ত্রিসভায় থাকাকালে তরুণী মা’দের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফেরত আসার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিলেন তিনি। তবে রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় মাগুফুলি একই ধরনে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে চাইলে, সামিয়া এর বিরোধিতা করেছিলেন কিনা তা স্পষ্ট নয়।

২০১৭ সালে ঘাতকের আক্রমণের শিকার হন তানজানিয়ার তখনকার বিরোধী দলীয় নেতা টুনডু লিসু। পুরো দেশ তখন সরকারি দলের দিকেই আঙ্গুল তুলেছিলো। তখন কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবীর এক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া টুনডু লিসুকে দেখতে গিয়ে পুরো দেশে আলোচনার ঝড় তুলেছিলেন সামিয়া!

মন্ত্রী ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদে অনেকদিন ধরে থাকলেও সামিয়ার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি কিছু জানা যায় না। ১৯৬০ সালে জানজিবারে জন্ম হয় এ নেত্রীর। মুজাম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন জনপ্রশাসন নিয়ে। পরে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। সামিয়ার স্বামী হাফিয আমির একজন কৃষি বিশেষজ্ঞ। তাঁদের বিয়ে হয় ১৯৭৮ সালে। তবে সামিয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে এ দুজনকে কখনোই এক সাথে ক্যামেরার ফ্রেমে পাওয়া যায়নি! তাঁদের চার সন্তানের মাঝে মানু হাফিয আমির মায়ের পদচিহ্ন অনুসরণ করে এখন জানজিবার হাউজের সদস্য। সূত্র: বিবিসি।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে