তুরস্ক পাকিস্তানের সাথে ক্ষেপণাস্ত্র ও জঙ্গীবিমান বানাতে চায়!

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
উদীয়মান পরাশক্তি হিসাবে মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ায় দিনে দিনে প্রভাব বিস্তার করছে তুরস্ক। পাশাপাশি পাকিস্তানও দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে। এবার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ দুটি যৌথভাবে জঙ্গীবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রে উৎপাদন করতে যাচ্ছে।

সামরিক হার্ডওয়্যার উন্নয়ন এবং উৎপাদনের ধারণা নিয়ে তুরস্কের প্রতিরক্ষা ও সরকারি কর্মকর্তারা সম্প্রতি পাক কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে তুরস্কের জন্যে চীনা যুদ্ধ প্রযুক্তি হস্তগতের পথ খুলে যেতে পারে। কেননা, পাকিস্তান চীনের সাথে মিলে অত্যাধুনিক জঙ্গীবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। দি ইন্টারন্যাশনাল নিউজ জানিয়েছে, পাকিস্তান চীনের সাথে যৌথভাবে জেএফ-১৭ থান্ডার জঙ্গীবিমান বানাচ্ছে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বানাতে চীনা ডিজাইন গ্রহণ করেছে।

এখন পাকিস্তানের সাথে প্রতিরক্ষা প্রকল্পে তুরস্ক যুক্ত হলে, চীনা সামরিক প্রযুক্তি তাদের হাতেও চলে আসবে। জানুয়ারিতে এ নিয়ে বৈঠক হয়েছে বলে দু দেশের কর্মকর্তারা ব্লুমবার্গকে নিশ্চিত করেছেন। তবে তারা এ ধরনের চুক্তি নিয়ে কতোদূর এগিয়েছেন কিংবা এ নিয়ে আবার কবে বৈঠক হবে, তা বলতে চাননি। দ্য উইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তুর্কি এক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানকে কৌশলগত মিত্র হিসেবে চাচ্ছে তুরস্ক। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রকল্প ‘সিপার’ এবং টিএআই টিএফ-এক্স জঙ্গীবিমান তৈরিতে পাকিস্তানকে সম্ভাব্য অংশীদার বানাতে চাচ্ছে তুরস্ক।

এরদোয়ান তুরস্ককে মধ্যপ্রাচ্যের একটি বড় শিল্প ও সামরিক শক্তি হিসাবে গড়ে তুলতে এবং বিশিষ্ট মুসলিম দেশগুলোর সাথে কৌশলগত সম্পর্ক গড়তে চাচ্ছেন। ‘সিপার’ দীর্ঘ-পরিসরের ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক উচ্চতা সম্পন্ন একটি আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম – যা বিমান ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উভয়কেই ঠেকিয়ে দিতে পারে। তবে এর চেয়ে টিএআই টিএফ-এক্স প্রকল্পকেই তুরস্কের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ পরিকল্পনার ভিত্তি হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

টিএআই টিএফ-এক্স (তুর্কি ফাইটার-এক্সপেরিমেন্টাল) একটি চৌকস দু ইঞ্জিনের জঙ্গীবিমান – যা দিয়ে তুরস্ক তার এফ-১৬ জঙ্গীবিমানের বিশাল বহর প্রতিস্থাপন করতে চায়। তুরস্ক আমেরিকা থেকে অন্তত ২৪০টি এফ-১৬ জঙ্গীবিমান কিনেছিলো। ফলে, তারা ইসরাইল ও আমেরিকার পরে এ ধরণের সবচেয়ে বড় বিমানবহরের মালিক হয়েছে। টিএআই টিএফ-এক্স প্রকল্পটি ২০১১ সালে চালু হয়েছিলো। ২০১৫ সালে তুরস্ক এটার উন্নয়নে সহায়তার জন্যে যুক্তরাজ্যভিত্তিক এয়ারস্পেস সংস্থা বিএই সিস্টেমগুসকে বেছে নিয়েছিলো। ‘স্টিলথ বৈশিষ্ট্য’ এ বিমানটি সবচেয়ে শক্তিশালী জঙ্গীবিমানগুলোর অন্যতম হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: ব্লুমবার্গ, দি ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ও দ্য উইক।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে