দখ’ল’দা’র ইসরাইলের অপরাধ তদন্ত করবে জাতিসংঘ!

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
ইসরাইল বনাম হামাসের ১১ দিনের সংঘাত তদন্ত করতে যাচ্ছে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ।

ইসরাইল–হামাস সংঘাত তদন্তে একটি স্থানীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে ওআইসি ও জাতিসংঘের ফিলিস্তিনের প্রতিনিধির আনা প্রস্তাব নিয়ে বৃহস্পতিবার সারাদিন অধিবেশন চলে। ব্যাপক আলোচনা ও ভোটাভুটির পর, প্রস্তাবটি ২৪-৯ ভোটে পাশ হয়। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত ফিলিস্তিন অঞ্চল ও ইসরাইলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত করতে দ্রুত স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে। কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ দেবেন মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের প্রেসিডেন্ট। কমিশন ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেবে।

আলোচ্য ইস্যুতে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৪৭ সদস্যের ফোরামে ২৪ সদস্য পক্ষে এবং ৯ সদস্য বিপক্ষে ভোট দেয়। আর ১৪ সদস্য ভোটদানে বিরত থাকে। পক্ষে ভোট দেয়া সদস্যরা হচ্ছে – আইভোরিকোস্ট, আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরিত্রিয়া, উজবেকিস্তান, কিউবা, গ্যাবন, চীন, নামিবিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, বলিভিয়া, বাংলাদেশ, বাহরাঈন, বুরকিনা ফাসো, ভেনিজুয়েলা, মেক্সিকো, মৌরিতানিয়া, রাশিয়া, লিবিয়া, সুদান, সেনেগাল ও সোমালিয়া।

বিপক্ষে ভোট দেয়া সদস্যরা হচ্ছে – অস্ট্রিয়া, উরুগুয়ে, ক্যামেরুন, চেক প্রজাতন্ত্র, জার্মানি, বুলগেরিয়া, বৃটেন, মালাবি ও মার্শাল আইসল্যান্ডস।

অনুপস্থিত সদস্যা হচ্ছে – ইউ্রক্রেন, ইতালি, জাপান, ডেনমার্ক, তোগো, দক্ষিণ কোরিয়া, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, ফিজি, ফ্রান্স, ভারত, বাহামা ও ব্রাজিল।

কাউন্সিলের উদ্বোধনী অধিবেশনে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেট বলেন: গাজায় ব্যাপক মাত্রায় হতাহতের ঘটনায় আমি উদ্বিগ্ন। ইসরাইল যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করতে পারে। ইসরাইলের দিকে হামাসের নির্বিচারে রকেট নিক্ষেপও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। সামরিক কাজে ব্যবহৃত ইসরাইলি জঙ্গীবিমান গাজার বেসামরিক ভবনে হামলা চালিয়েছে – এমন কোনো প্রমাণ আমি দেখতে পাইনি। হামলা সমানুপাতিক হারে না হলে, সেটা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। … যদিও ইসরাইলি হামলাগুলো ছিলো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সদস্য ও তাদের স্থাপনাকে লক্ষ্য করে। কিন্তু এর ফলে বিপুল বেসামরিক লোক নিহত ও আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ব্যাপকভাবে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেসামরিক স্থাপনাও। বিধ্বস্ত অনেক ভবন গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহার করতো বলে ইসরাইল যে দাবি করেছে, আমরা কিন্তু এর এমন কোনো প্রমাণ দেখেনি। নিজের নাগরিক ও তাদের ঘরবাড়ী রক্ষা করা ইসরাইল অধিকার – এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে ফিলিস্তিনীদেরও সে অধিকার আছে। একই অধিকার।

এ সংঘাতের তদন্তের বিরোধিতা করে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র আমেরিকা বলেছে, ঐ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যে অগ্রগতি এসেছে, তা ব্যাহত করবে এ তদন্তের সিদ্ধান্ত।

ইসরাইল এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ঐ তদন্তের ব্যাপারে কোনো ধরনের সহযোগিতা তারা করবে না। গতকাল ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেছেন: আজকের লজ্জাজনক সিদ্ধান্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ইসরাইলবিরোধী মনোভাবের আরেকটি উদাহরণ।

তবে হামাস জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের এ পদক্ষেপেরর স্বাগত জানিয়ে বলেছে, ইসরাইলের বিরুদ্ধে তাদের নিজেদের ‘বৈধ প্রতিরোধ’ চলবে। ইসরাইলকে যতো দ্রুত সম্ভব শাস্তি দেয়ার আহ্বানও জানিয়েছে তারা। সূত্র: ইউনাইটেড নেশনস হিউম্যান কাউন্সিল, আল-জাজিরা, আনাদোলু, ডেইলি সাবাহ ও বিবিসি।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে