ফিলিস্তিনীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবো না: ইমরান খান।

0

Our Times News

কিছুদিন আগে ইসরাইলের কয়েকটি পত্র-পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে যে, ইমরান খানের একজন শীর্ষ পর্যায়ের উপদেষ্টা নাকি গত মাসে গোপনে ইসরাইল সফর করেছেন। তিনি ইমরান খানের তরফ থেকে বিশেষ বার্তা বহন করে নিয়ে গেছেন। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আগ্রহ নিয়ে ইমরান খান তার উপদেষ্টাকে বার্তা পাঠিয়েছেন। ইসরাইলের প্রভাবশালী পত্রিকা জেরুজালেম পোস্ট খবরটি প্রকাশ করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়!

ইতোমধ্যে নূর দাহরি নামে যুক্তরাজ্যভিত্তিক এক গবেষক দাবি করেছেন-পাকিস্তান সরকার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এ তথ্য প্রকাশের পরপরই পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান শুক্রবার পাকিস্তানের সামা টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ঐ খবরকে প্রত্যাখ্যান করে উল্টো প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন: ইসরাইলকে যেহেতু ইসলামাবাদ স্বীকৃতিই দেয়নি, তাহলে কেন পাকিস্তানের মন্ত্রী কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তেলআবিব সফর করবেন? এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রতিবেদন। ফিলিস্তিনীদের ভূখণ্ডের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবে না পাকিস্তান। পাকিস্তান একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আমাদের গোটা জাতি ফিলিস্তিনীদের পক্ষে। ফিলিস্তিনীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কিছুতেই ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবো না। আমার সরকারের বিরুদ্ধে এ অপপ্রচারে ভারতের হাত থাকতে পারে। আর স্বাধীন ফিলিস্তিনীদের ভূখণ্ডের দাবিকে ইসরাইল সম্মান জানাবে – এমনটাই আশা করে পাকিস্তান।

একই দিনে আবুধাবীতে রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেহমুদ কোরেশী ঐ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেন: তেল আবিবে ইসরাইল ও পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের কোনো বৈঠক হয়নি।

ইসলামাবাদে প্রেস টিভির সংবাদদাতা জাভেদ নানা জানিয়েছেন, ইমরান খান স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, পাকিস্তান যেখানে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয় না, সেখানে তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো কারণ থাকতে পারে না।

উল্লেখ্য, জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী দাবি করে আসছে ফিলিস্তিন। পাকিস্তান তাদের এ দাবিকে ন্যায্য বলে সমর্থন দিয়ে আসছে।

ওদিকে, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পাকিস্তানের উপর সউদী আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে বলে শোনা যাচ্ছে। কেননা, রিয়াদের কাছ থেকে ইসলামাবাদ ৩৩০ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছিলো। জুলাইয়ে প্রথম ধাপে সউদী আরবকে ১০০ কোটি ডলার ফিরিয়ে দেয় পাকিস্তান। এরপর দ্বিতীয় দফায় চীনের কাছ থেকে আরো ১০০ কোটি ডলার ধার নিয়ে সউদী আরবকে ফিরিয়ে দেয় পাকিস্তান। সউদী আরবের বাকি ঋণ শোধের জন্যেও চীনের কাছে সাহায্য চেয়েছে পাকিস্তান। চীন তা দিলে, তা দিয়ে সউদী আরবের বাকি ঋণ পরিশোধ করবে ইসলামাবাদ। আগামী মাসের ভেতরে পাকিস্তানকে সউদী আরবের এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন হচ্ছে পাকিস্তানের অর্থ সহায়তাকারী সবচেয়ে বড় মিত্র দেশ।

সউদী আরবের কথায় ইসরাইলকে স্বীকৃতি না দেয়ায়ই সউদী সরকার পাকিস্তানকে ঋণ পরিশোধে চাপ দিচ্ছে বলে কূটনৈতিক মহল ভাবছেন। কেননা, পারমাণবিক শক্তিধর মুসলিম একমাত্র দেশ পাকিস্তান আগে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিলে, সউদী আরবের জন্যে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়াটা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে!

কূটনৈতিক মহল আরো মনে করছেন, পাকিস্তানকে চীনের এতো ঋণ দেয়ার মূল কারণ হচ্ছে, উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকার যেনো উচ্চবাচ্চ না করে! সূত্র: আরব নিউজ, দ্য ডন ও অন্যান্য।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে