ফিলিস্তিনে বর্ণবাদী অপরাধ করছে দখলদার ইসরাইল: এইচআরডব্লিউ

0

রিপোর্টার: সাইফুল ইসলাম।
আওয়ার টাইমস্ নিউজ: গেল মঙ্গলবার নিউইয়র্কভিত্তিক মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বলেছে, অধিকৃত এলাকা ও নিজেদের অভ্যন্তরে আরবদের বিরুদ্ধে জাতিবিদ্বেষ ও নিপীড়ন চালাচ্ছে ইসরাইল। রিপোটিকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ ও ‘বানোয়াট’ বলে ইসরাইল প্রত্যাখ্যান করলেও ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস স্বাগত জানিয়েছেন।

এইচআরডব্লিউ’র ২১৩ পৃষ্ঠার রিপোর্টে বলা হয়েছে, নিজ দেশের নাগরিক হলেও ইহুদি ইসরাইলিদের আধিপত্য বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করছে ইসরাইল। জাতিবিদ্বেষকে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে গণ্য করা হয়। ইসরাইলের ৯৩ লাখ জনসংখ্যার মাত্র ২০% আরব সংখ্যালঘু। ইসরাইলের অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসবাস করেন ২৫ লাখ ফিলিস্তিনী; আর অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে সাড়ে তিন লাখ ফিলিস্তিনীর বাস। এছাড়া, গাজা উপত্যকায় প্রায় ১৯ লাখ ফিলিস্তিনী বসবাস করেন। এ এলাকাটিও ইসরাইলের অধিকৃত বলে বিবেচনা করে জাতিসংঘ। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইসরাইল এসব এলাকা দখল করে নেয়। ২০০৫ সালে ইসরাইল গাজা উপত্যকা ছেড়ে গেলেও এর বেশিরভাগ সীমান্ত, আকাশসীমা ও উপকূল এখনো নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে নির্মাণ করা ১৪০টি বসতিতে ছ’ লাখের বেশি ইহুদি বসবাস করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ এসব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ বলে বিবেচনা করে। তবে ইসরাইল তা মানে না। এখনকার বাস্তবতা হলো – ইসরাইল বেশিরভাগ এলাকা একাই শাসন করছে। এসব এলাকায় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ পদ্ধতিগতভাবে ইহুদি ইসরাইলিদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করছে। আইন, নীতি ও ইসরাইলি শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিবৃতির মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে যে, জনসংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে, রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং ভূমির উপর ইহুদি ইসরাইলিদের নিয়ন্ত্রণ থাকবে আর এটা দীর্ঘ দিনের সরকারি নীতি।

অন্যদিকে, উল্লিখিত প্রতিবেদনকে অসঙ্গত ও মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা এইচআরডব্লিউ’র বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগ এনে ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, নতুন প্রতিবেদনে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার সাথে আসল ঘটনা কিংবা মাঠের বাস্তবতার কোনো সংযোগ নেই।

তবে ঐ প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তুক্ষেপ জরুরি -যাতে করে তারা নিশ্চিত করতে পারে যে, তাদের রাষ্ট্র, সংস্থা ও কোম্পানিগুলো কোনো ধরনের যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে কোনো ভূমিকা রাখছে না। সূত্র: বিবিসি ও আরব নিউজ।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে