ভারতের বিরোধিতা উপেক্ষা করে গিলগিট-বালতিস্তানকে অস্থায়ী প্রদেশের মর্যাদা দিলো পাকিস্তান।

0

Our Times News

পারমাণবিক শক্তিধর এ দু প্রতিবেশীর মাঝে তিনটি যুদ্ধের দুটিই হয়েছে কাশ্মীর নিয়ে। উভয়ই পুরো অংশ নিজেদের বলে দাবি করলেও আলাদা আলাদা অংশ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। কাশ্মীর ও লাদাখের মাঝে অবস্থিত পাহাড়ি অঞ্চল গিলগিট-বালতিস্তান নিয়েও দু দেশের মাঝে বিরোধ রয়েছে। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মাঝে যে যুদ্ধ হয়েছিলো -আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হলেও কাশ্মীর ও লাদাখের একাংশ পাকিস্তান এবং অন্য অংশ ভারতের হাতে থেকে যায়। ভারতের দাবি – পাকিস্তান অঞ্চলটিকে দখল করে রেখেছে। কিন্তু পাকিস্তান তা কখনোই স্বীকার করেনি।

গিলগিট-বালতিস্তানের জনবসতি খুব বেশি নয়। এ বছরের শুরুতে ওখানে নির্বাচন অনুষ্ঠানের তোড়জোড় শুরু হয়। পরে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত সেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে রায় দেয়। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে প্রাথমিক সূচি বদল হয়ে ১৫ই নভেম্বর ঐ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। রবিবার এক রাজনৈতিক সমাবেশে গিলগিট-বালতিস্তানকে নতুন প্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন: এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণ হলো।

গিলগিট-বালতিস্তানে গিয়ে তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, নদী বাঁধের মতো একাধিক প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনা করেন ইমরান খান।

ইমরান খানের ঐ ঘোষণার পর, তীব্র বিরোধিতা শুরু করে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন: পাকিস্তান সরকার বেআইনিভাবে জোর করে দখলে রাখা ভারতীয় ভূখণ্ডের একাংশের চরিত্রগত পরিবর্তনের যে চেষ্টা চালাচ্ছে, ভারত তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। ১৯৪৭ সালে যে চুক্তির অধীনে কাশ্মীর ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলো, সেই চুক্তি মোতাবেক, গিলগিট-বালতিস্তানও ভারতেরই অংশ। পাকিস্তান অঞ্চলটি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। ঐ অঞ্চলে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কিংবা প্রদেশ ঘোষণার অধিকার তাদের নেই। এ ধরনের কাজ আসলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমান। পাশাপাশি পাকিস্তানের ঐ সিদ্ধান্তে এটা প্রমাণ হয় যে, কীভাবে দিনের পর দিন তারা একটি অঞ্চলের মানুষদের স্বাধীনতা খর্ব করে চলেছে। ভারতের যে জায়গাগুলো পাকিস্তান দখল করে রয়েছে, সেগুলোকে নিজেদের অধীনে নেয়ার পরিকল্পনা থেকে ইসলামাবাদের উচিত – অবিলম্বে সেখান থেকে সরে যাওয়া। গিলগিট-বালতিস্তানে নির্বাচন ঘোষণা করে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে পাকিস্তান।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-ও দুটি টুইটে বলেছেন: পাকিস্তান অবৈধভাবে গিলগিট-বালতিস্তান দখল করেছে। এখন এটাকে প্রদেশ বানাচ্ছে। আমাদের সরকার স্পষ্ট করেছে যে, গিলগিট-বালতিস্তানের পাশাপাশি পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত পুরো কাশ্মীর ভারতের অখণ্ড অংশ। আমরা কখনোই ভারত ভাগ চায়নি। কিন্তু তা হয়েছে। যেসব সংখ্যালঘু ভারত ছেড়ে যায়, আপনারা জানেন – তাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয়েছে। এসব নিপীড়িত সংখ্যালঘুদের জন্যে আমরা নতুন আইন এনেছি।

উল্লেখ্য, নতুন আইন বলতে রাজনাথ সিং ভারতের নতুন নাগরিকত্ব আইনের দিকে ইঙ্গিত করেন। তাতে প্রতিবেশী তিন দেশের হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লী। ঐ আইনের বিরুদ্ধে ভারতজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভের জেরে এ বছরের ফেব্রুয়ারীতে দিল্লীতে শুরু হয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। এতে প্রায় একশ’ মানুষ নিহত ও কয়েকশ’ মানুষ আহত হয়। সূত্র: ডয়চে ভেলে ও জিও নিউজ।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে