মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য বদলে দেবে তুর্কি ড্রোন!

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
১৯৭৫ সালে সাইপ্রাসে আক্রমণের ফলে আঙ্কারার ওপর আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে তুরস্ক তার দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প উন্নয়নে মনোযোগ দেয়। গত দুদশকে মিলিটারি হার্ডওয়্যার ও ড্রোন প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করে দেশটি। বর্তমানে দেশটির প্রতিরক্ষা খাত এমন এক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে – যেখানে এটি তুরস্কের ভূ-রাজনৈতিক নীতি নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

তুরস্কের তৈরি বাইরাক্তার টিবি২ ড্রোন নাগোর্নো-কারাবাখ নিয়ে আজারবাইজান বনাম আর্মেনিয়ার সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিয়ামকের ভূমিকা পালন করেছে এবং ইরাকের নিষিদ্ধ কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকের বিরুদ্ধে তুরস্কের ৩৫ বছরের যুদ্ধে ২০১৬ সাল থেকে মোতায়েন টিবি২ ইরাক এবং উত্তর সিরিয়ার ওয়াইপিজিতে নির্ধারিত লক্ষ্যে আঘাত হানছে। ড্রোন অভিযানের ফলে সিরীয় সেনাবাহিনী ইদলিবে আগানো বন্ধ করে দিয়েছে – যা রাশিয়াকে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করতে বাধ্য করেছে! অল্প সময়েই সশস্ত্র-ড্রোন প্রযুক্তি তুরস্কের প্রতিরক্ষা কেন্দ্রিক বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে।

তুর্কি ড্রোনগুলো কৌশলগতভাবে দক্ষ এবং পশ্চিমা প্রযুক্তির তুলনায় দামেও সস্তা। সামরিক বিশেষজ্ঞ মেতিন গুরকান তুরস্কের এ সামরিক বিবর্তনকে দেশটির শক্তি প্রক্ষেপণের ‘ড্রোনাইজেশন (ড্রোনকরণ)’ হিসাবে অভিহিত করেছেন। ড্রোনগুলোর সাফল্যের ফলে ভূ-রাজনীতিতে তুরস্ক ঐতিহ্যগতভাবে কূটনৈতিক কৌশলের ওপর নির্ভরের পরিবর্তে তার নব যুগের সামরিক দক্ষতার ওপর নির্ভর করছে। দেশটি তার সামরিক শক্তির প্রচার ও প্রসারে জনসংযোগ জোরদার করেছে।

সামরিক ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন – যাদের আগে ড্রোন পাওয়ার সামর্থ্য ছিলো না বা সেগুলো অর্জনে যাদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিলো – তেমন আরো বিস্তৃত বাজারে তুরস্ক ব্যাপক হারে তার মধ্য-ব্যান্ডউইথের সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহ এবং মোটামুটি সস্তা ড্রোনগুলো বিক্রি শুরু করতে পারে এবং দেশটির এ পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যকে বদলে দেবে। বায়রাক্তার টিবি২ ড্রোন ইতোমধ্যে কাতার, ইউক্রেন, তিউনিসিয়া ও লিবিয়ায় রফতানি হয়েছে। আঙ্কারা এটিকে কেবল সূচনা হিসাবে দেখছে।

কার্যকর ড্রোন এমন এক সময়ে এ অঞ্চলে তুরস্কের ভাবমর্যাদা জোরালো করে তুলেছে – যখন দেশটি অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখোমুখি হচ্ছিলো। আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ বৈরুতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ হিলাল খাশানের মতে, ককেশাসে তুর্কি অধ্যুষিত অন্যান্য অঞ্চলের উপর আধিপত্য বিস্তারে তুরস্ক আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে আজারবাইজানের জয়কে ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পূর্ব ভূমধ্যসাগর ও মধ্যপ্রাচ্য নিয়েও তুরস্কের একই রকম উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন নয়।

তুরস্ক তার কৌশলগত স্বাধীনতায় দীর্ঘমেয়াদী উচ্চাকাঙ্ক্ষায় অগ্রগতি অর্জন করলে, আঞ্চলিক নীতি-নির্ধারকরা নিজেদের তুলনামূলক শক্তির অবস্থান থেকে পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়ে তুরস্কের মিত্রদের সাথে আপস ও আলোচনার বিষয়টি বিবেচনায় প্রস্তুত হতে পারেন। সূত্র: এশিয়া টাইমস্

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে