মরক্কোয় বাসা ভাড়া পাচ্ছেন না ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত!

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পর, ইসরাইলি মিশন প্রধান ডেভিড গভরিন মরক্কোয় প্রায় ৬ মাস চেষ্টা করেও জমি ভাড়া পাচ্ছেন না। ফলে, এখনও তিনি হোটেলে থেকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইসরাইল ও মরক্কোর সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, রাজধানী রাবাতের বাসিন্দারা ইসরাইলি দূতকে বাসা ভাড়া দিতে রাজি হচ্ছেন না।

রাবাতের অভিজাত এলাকায় ইসরাইলি মিশন স্থাপনের জন্যে উপযুক্ত ভবন ভাড়া নিতে একটি সংস্থাকে নিয়োগ দেয়া হয়। মিশন প্রধান গভরিনের একটি বাসা পছন্দও হয়। কিন্তু ইসরাইলি কূটনীতিকের কাছে তা ভাড়া দিতে অসম্মতি জানিয়েছেন স্থানীয় মালিক। রাবাতের আরো কয়েকটি এলাকায়ও এমন ঘটনা ঘটেছে। এর আগে মিসরে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা গভরিন এখনও হোটেলেই থাকছেন।

সম্প্রতি গাজায় টানা ১১ দিন ইসরাইলের বোমা হামলার প্রতিবাদে মরক্কোর বিভিন্ন শহরে দেশটির নাগরিকরা বিক্ষোভ করেছেন। ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির কাছে ইসরাইলের লিয়াজোঁ অফিস বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, ২৬শে মার্চ ১৯৭৯ সালে প্রথম আরব মুসলিম দেশ হিসেবে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়া মিসর। বিনিময়ে ইসরাইল অধিকৃত সিনাই উপদ্বীপ মিসরকে ফেরত দেয়া হয়। এরপর ২৬শে অক্টোবর ১৯৯৪ সালে জর্দান, ট্রাম্প প্রশাসনের কারসাজিতে গত বছর ৪ঠা সেপ্টেম্বর কসোভো, ১৫ই সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন, ২৩শে অক্টোবর সুদান এবং ১০ই ডিসেম্বর ষষ্ঠ আরব মুসলিম দেশ হিসেবে মরোক্কো ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়। বিনিময়ে আমেরিকা পশ্চিম সাহারায় মরক্কোর দাবিকে স্বীকৃতি দেয়। সম্পর্ক স্বাভাবিক করা আর স্বীকৃতি দেয়াটা প্রায় একই কথা। ‘স্বীকৃতি দেয়া’ হচ্ছে, সরল ভাষা আর ‘সম্পর্ক স্বাভাবিক করা’ হলো কূটনৈতিক ভাষা।

আর যেসব মুসলিমপ্রধান দেশ ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিয়েছে, সেসব হচ্ছে – তুরস্ক (২৮শে মার্চ ১৯৪৯), আলবেনিয়া (১৬ই এপ্রিল ১৯৪৯), সেনেগাল (১৯৬০), চাদ (১০ই জানুয়ারী ১৯৬১), বুরকিনা ফাসো (৫ই জুলাই ১৯৬১), উজবেকিস্তান (২১শে ফেব্রুয়ারী ১৯৯৩), কিরগিজস্তান (মার্চ ১৯৯২), আজারবাইজান (৭ই এপ্রিল ১৯৯২), কাজাখস্তান (১০ই এপ্রিল ১৯৯২), তাজিকিস্তান (এপ্রিল ১৯৯২), নাইজেরিয়া (সম্পর্ক অক্টোবর ১৯৭৩ সালে ভেঙে মে ১৯৯২ সালে পুনঃস্থাপন), গাম্বিয়া (সম্পর্ক অক্টোবর ১৯৭৩ সালে ভেঙে আবার সেপ্টেম্বর ১৯৯২ সালে পুনঃস্থাপন), সিয়েরে লিয়ন (সম্পর্ক অক্টোবর ১৯৭৩ সালে ভেঙে মে ১৯৯২ সালে আবার পুনঃস্থাপন), তুর্কমেনিস্তান (৬ই অক্টোবর ১৯৯৩), গিনি বিসাউ (মার্চ ১৯৯৪), বসনিয়া-হার্জিগোভিনা (২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯৯৭) এবং গিনি (সম্পর্ক ১২ই জুন ১৯৬৭ সালে ভেঙে আবার ২০শে জুলাই ২০১৬ সালে পুনঃস্থাপন)।এছাড়া, ইয়াসির আরাফাতের সরকার ১৯৯৩ সালে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার বিনিময়ে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান। এসব দেশের সরকারগুলোকে হুমকি দিয়ে অথবা এদের দারিদ্রের সুযোগ নিয়ে কিংবা একনায়ক বা রাজতান্ত্রিক সরকারকে টিকিয়ে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বীকৃতি আদায় করা হয়। সূত্র: আল-জাজিরা ও অন্যান্য।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে