মসজিদ নিষিদ্ধ বলে রাস্তায় নামাজ পড়েন মুসল্লীগণ!

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
ইথিওপিয়ার আকসুম শহরের জনসংখ্যা প্রায় ৭৩ হাজার। এদের মাঝে ৭ হাজারেরও বেশি মুসলিম। কিন্তু অবাক কাণ্ড হলো – এখানে মসজিদ নির্মাণ একেবারেই নিষিদ্ধ! মুসল্লীগণ নামাজ পড়েন রাস্তায়; যদিও তাঁরা এমন নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিতে অনবরত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন; মসজিদ কায়েমের জন্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন! তবে উগ্র খৃষ্টান নেতারা এখনো তাদের সিদ্ধান্তে অনড়! তারা মুসলিমদের আহ্বান ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করে বলছেন যে, আকসুমে মসজিদ নির্মিত হলে, তাদের জন্যে মরণই হবে শ্রেয়! খৃষ্টান সিনিয়র নেতা গডেফা মেরহা জানান, আকসুম তাদের কাছে মক্কা! তাদের বিশ্বাস – ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোতে যেমন গির্জা নিষিদ্ধ – তেমনি আকসুমেও কোনো মসজিদ থাকতে পারে না! উনি বলেন: আকসুম একটি পবিত্র স্থান। সিটি অব মনেস্ট্রি। এখানে কেউ মসজিদ নির্মাণ করতে এলে, আমরা মরবো। কখনোই এটা মেনে নেয়া হবে না। আমরা বেঁচে থাকতে মুসলিমদের এ আবেদন অনুমোদন করবো না!

এদিকে ‘জাস্টিস ফর আকসুম মুসলিম’ ব্যানারে একদল মুসলিম আকসুমে দিনের পর দিন মসজিদ নির্মাণে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাদের দাবি – মসজিদ কায়েম এবং ইবাদত-বন্দেগীর সুযোগ পাওয়াটা তাদের অধিকার।

ইতিহাস বলে – ইসলাম প্রচারের শুরুতে মহানবী (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লক্ষ্য করলেন – আল্লাহপাকের রহমতে তিনি তাঁর এক চাচা আবু তালিব এবং আরেক চাচা, দুধভাই ও সাহাবী বীরকেশরী আমির হামজার প্রভাবে কিছুটা নিরাপদে থাকলেও তাঁর মুষ্টিমেয় সাহাবী মক্কায় অমুসলিম কুরাইশ নেতা-পোতাদের অব্যাহত জুলুমের শিকার হচ্ছেন। তখন তিনি বললেন: ‘আবিসিনিয়ায় চলে যাওয়াটাই তোমাদের জন্যে ভালো। সেখানে এমন একজন ন্যায়পরায়ণ বাদশা রয়েছেন – যাঁর রাজত্বে কেউ মজলুম হয় না। সে দেশটা সত্যের দেশ। আল্লাহ যতোদিন তোমাদের জন্যে জুলুমমুক্ত পরিবেশ করে না দিচ্ছেন – ততোদিন তোমরা সেখানে থাকতে পারো।’ তখন ৮৩ জন সাহাবী কয়েক দফায় ঈমান ও আমলের হেফাজতের কথা ভেবে সেখানে হিজরত করেন – যা ছিলো মহানবীর যুগে ইসলামের প্রথম হিজরত। তাঁদের কেউ কেউ সস্ত্রীক, আবার কেউ কেউ একাও ছিলেন। আবিসিনিয়ায় গিয়ে কোনো কোনো দম্পতির সন্তানও হয়েছে। যাহোক, মুহাজিরীনের প্রথম দলটিতে হযরত উছমান ইবনে মায’উন ইবনে হাবীবের নে্তৃত্বে নারী-পুরুষ মিলিয়ে মোট চোদ্দজন সাহাবী ছিলেন – যাঁরা আবিসিনিয়ার আকসুম শহরে হিজরত করেন! বাকি তেরোজন হলেন – হযরত উছমান ইবনে আফফান ইবনে আবিল ’আস, তাঁর স্ত্রী ও নবী-নন্দিনী রুকাইয়া, আবু হুযাইফা ইবনে উতবা ইবনে রাবী’য়া, তাঁর স্ত্রী সাহলা বিনতে সুহাইল ইবনে আমর, যুবাইর ইবনুল আওয়াম ইবনে খুওয়াইলিদ, মুস’য়াব ইবনে ’উমাইর ইবনে হাশিম, আব্দুর রহমান ইবনে আওফ ইবনে হারিছ, আবু সালামা ইবনে আব্দিল আসাদ ইবনে হিলাল, তাঁর স্ত্রী উম্মে সালামা বিনতে আবি উমাইয়া ইবনে মুগীরা, আমির ইবনে রাবী’য়া ইবনে ওয়াইল, তাঁর স্ত্রী লায়লা বিনতে আবি হাসামা ইবনে হুযাফা, সুহাইল ইবনে বায়যা ইবনে রবীয়া, ও আবু সাবরা ইবনে আবি রুহুম ইবনে আব্দিল উঝঝা। কারো কারো মতে, আবু সাবরা নন, বরং আবু হাতিম ইবনে আমর ইবনে আব্দি শামস। ইনিই কাফেলার সবার আগে আবিসিয়ার পৌঁছেন বলে কথিত আছে। আরব উপদ্বীপের বাইরে এটিই ছিলো মুসলিমদের (রিদ্বওয়ানুল্লাহিতা’লা ’আলাইহিম) প্রথম কোনো উপস্থিতি। তৎকালীন খৃষ্টান রাজা সে সময় তাঁদের স্বাগত জানান। উল্লেখ্য, লোহিত সাগরীয় সেই আবিসিনিয়া ভেঙে এখন দুটি রাষ্ট্র হয়েছে – ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়া।

যাহোক, বর্তমানে আকসুমবাসীর ৮৫% অর্থোডক্স খৃষ্টান, ১০% মুসলিম আর ৫% অন্যান্য খৃষ্টান। এমতাবস্থায় আকসুমের কিছু কিছু মুসলমানও মনে করেন – মসজিদ নির্মাণে এ আন্দোলন অর্থহীন! কেননা, প্রাচীন এ শহরটি অনাদিকাল থেকেই ধর্মীয় সহনশীলতার জন্যে সুবিদিত।

২০ বছর ধরে আকসুমের বাসিন্দা ডাঃ আজিজ মুহম্দ বলেন: আকসুমে মুসলিম ও খৃষ্টানরা মিলেমিশে বসবাস করি। ওদের সঙ্গে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক। আমাদের কোনো কাজে ওরা কখনো বাধা দেয় না। তবে বহু বছর ধরেই আমরা রাস্তায় নামাজ পড়ি। আমাদের জন্যে একটি মসজিদ হলে খুবই ভালো হয়। সূত্র: আরাবিয়ান বাংলা, সীরাতে ইবনে হিশাম ও অন্যান্য।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে