সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জিতেছেন রাখাইনের এক নারী!

0

Our Times News

সেনাদের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েও দৃঢ়চেতা রাখাইন এক নারী থেইন উ (ছদ্মনাম) মিয়ানমারের ক্ষমতাধর সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যান। কয়েক মাসের আইনি লড়াইয়ে অবশেষে বিরল এক জয় পেয়েছেন তিনি। শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) এক সেনা আদালতের রায়ে তিন ধর্ষকের ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছে। থেইন উ (৩৬) মনে করেন – তার এ বিজয় সেনা বাহিনীর ধর্ষণের শিকার অন্যান্য নারীকে কথা বলার এবং সেনাদের দায়মুক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সাহস যোগাবে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন থেকেই সংঘাত কবলিত এলাকায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, নিপীড়ন ও অন্যান্য সহিংসতা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। তবে দেশটির ক্ষমতাধর এ বাহিনী বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। চার সন্তানের মা রাখাইনের ঐ নারীও প্রথম ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুললে, তা প্রত্যাখ্যাত হয়।

রাখাইনে গত দু দশকের বেশি সময় ধরে সেনাবাহিনী ও নৃতাত্ত্বিক রাখাইন জনগোষ্ঠীর আরো বেশি স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবিতে সংগ্রামরত আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে লড়াই চলছে। সেখানেই গত জুনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন থেইন উ। তিনি বলেন: আমার মতো আরো বহু নারীর সঙ্গেই এমন আচরণ হয়েছে। আমি তা প্রকাশ না করলে, হয়তো আরো অনেকের সঙ্গেও এটা ঘটতো।

থেইন উ অভিযোগ তোলার পরই মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর তরফে দাবি করা হয়, ঐ নারী মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। এমনকি সামাজিকভাবেও নানা প্রতিবন্ধকতার স্বীকার হয়েছেন তিনি। এখনো তার সঙ্গে কথা বলেন না তার স্বামী!

সামরিক ট্রাইব্যুনাল তার পক্ষে রায় দিতে পারে এমনটা এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না থেইন উ। তিনি বলেন: আমি আনন্দ ও কষ্ট দুটোই পাচ্ছি। আমি পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছি না যে, এ রায় সংঘাত কবলিত এলাকায় ধর্ষণ ও নারী নিপীড়ন থামাবে। কেননা, তারা (সেনাবাহিনী) দ্বিমুখী আচরণের কারণে মানুষের কাছে অবিশ্বস্ত হয়ে পড়েছে।

শনিবার এক বিরল স্বীকারোক্তি দিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়, থেইন উ’র তিন ধর্ষককে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। নিজেদের ‘স্বচ্ছ’ তদন্ত মোতাবেক এ রায় দেয়া হয়েছে বলেও দাবি করে সেনাবাহিনী।

তবে পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন: মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে থেইন উ’র বিজয় বড় কোনো পরিবর্তন আনবে বলে মনে করার জন্যে এখনো যথেষ্ট সময় গড়ায়নি। অতীতে সেনাবাহিনী ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকারের পাশাপাশি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধর্ষণের অভিযোগকারিনীদের বিরুদ্ধে উল্টো মানহানি মামলা দায়ের করেছে!

প্রায় ছ মাস আগের এক রাতে ধর্ষণের শিকার হন থেইন উ। সেই রাতের কথা এখনো স্মৃতিতে জ্বল জ্বল করে তার। সন্ধ্যা শুরু হতেই তার গ্রামে গুলির শব্দ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। থেইন উ নিজের মেয়ে- নাতনিদের নিয়ে নিজের শ্বাশুড়ীর ঘরে অন্য নারী ও শিশুদের পাশাপাশি আশ্রয় নেন। মাঝরাতের দিকে শিশুদের কান্নার শব্দে চার সেনা তাদের লুকিয়ে থাকার ঘরে ঢুকে পড়ে।

থেইন উ বলেন: বুঝতে পারলাম আমার চেয়ে শক্তিশালী তিন পুরুষের কাছ থেকে পালানোর কোনো পথ নেই।’

ঐ ঘটনার পর, নিজের সন্তানদের নিয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে রাজধানী সিত্তে এলাকার দিকে চলে আসেন। সেখানেই তিনি ন্যায়বিচার পেতে লড়াই চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। থেইন উ মনে করেন – তিন ধর্ষকের সাজা হলেও চতুর্থ ব্যক্তিটি ছিলেন এক সিনিয়র কর্মকর্তা। তার বিশ্বাস ঐ কর্মকর্তা চাইলে, তাকে রক্ষা করতে পারতেন। সেটা না করায় তারও সাজা হওয়া উচিত। সূত্র: আল-জাজিরা।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে