সুয়েজ খালের চেয়ে বেটার ও বিকল্প রুট ব্যবহারের চমৎকার প্রস্তাব ইরানের।

0

আওয়ার টাইমস্ নিউজ।
সুয়েজ খালের চেয়ে কম খরচ ও সময়ে বিকল্প রুটে লোহিত সাগরে যেতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিশ্বে কম পরিচিত ‘আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডার’ বা ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাইথ ট্রান্সপোর্ট করিডোর (আইএনএসটিসি) ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে ইরান।

মস্কোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালী সম্প্রতি এক টুইটে বলেছেন: আমাদের করিডোর ব্যবহার করে লোহিত সাগর থেকে ভারত যেতে সুয়েজ খালের চেয়ে খরচ কমবে ৩০% এবং সময় কমবে ২০ দিন। এটি সুয়েজ খালের উৎকৃষ্ট বিকল্প রুট। এতে আপনাদের সময় ও অর্থ – দুইই সাশ্রয় হবে।

আইএনএসটিসি হলো – ভারত, ইরান, আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান ও রাশিয়ার সাথে যুক্ত মধ্য এশিয়ার মধ্যবর্তী মালবাহী জাহাজের জন্যে জাহাজ, রেল ও সড়কপথের মাল্টি-মোড নেটওয়ার্ক। এ রুটের দৈর্ঘ্য ৭,২০০ কিঃমিঃ। ইউরোপের অনেক দেশ জাহাজ, রেল ও সড়ক দিয়ে ভারত, ইরান, আজারবাইজান ও রাশিয়া থেকে মালবাহী জাহাজ পরিচালনা করে থাকে। এ করিডোরের উদ্দেশ্য হলো – মুম্বাই, মস্কো, তেহরান, বাকু, বন্দর আব্বাস, আস্ট্রকান, বন্দর আনজালী প্রভৃতি প্রধান শহরগুলোর মাঝে বাণিজ্য সংযোগ বাড়ানো।

ইরানের পাশাপাশি ভারত ও রাশিয়ার তরফ থেকে আইএনএসটিসি রুটের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এতে ইরান ছাড়াও বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে ভারত ও রাশিয়া। ইরানের সামদ্রিক বাণিজ্যের ৮৫% পরিচালিত হয় বন্দর আব্বাস দিয়ে। বর্তমানে ভারত-ইরান-আফগানিস্তান মিলে ইরানের চাবাহার বন্দরকে পূর্ণ গভীর সমুদ্র বন্দর হিসেবে গড়ে তুলছে। এতে বন্দর আব্বাসের প্রতি চাপ কেবল কমবেই না, বরং বন্দর আব্বাসের চেয়েও দশ লাখ টনের বেশি বড় পণ্যবাহী জাহাজ চাবাহার বন্দর দিয়ে চলাচল করতে পারবে।

স্পুটনিক জানিয়েছে, এ ধরনের বিকল্প নৌরুটের প্রতি আগ্রহ রয়েছে তুরস্কেরও। দেশটির সাথে ইতোমধ্যে বিকল্প কৌশলগত বাণিজ্যিক জোট গঠনে অনেকদূর এগিয়ে গেছে চীন, রাশিয়া ও ইরান।

তুরস্কের আগ্রহের কারণ হচ্ছে, এ রুট ব্যবহারে তুরস্কের ওপর ইউরোপের দেশগুলোর নির্ভরশীলতা আরো বাড়বে। আমেরিকা, বিশেষ করে পশ্চিমা দুনিয়ার একচেটিয়া বাণিজ্যিক শক্তি খর্বের ক্ষেত্রে বিকল্প ইরানের চাবাহার বন্দর ব্যবহারকে এসব দেশ বড় এক উৎস হিসাবে বিবেচনা করছে। পাকিস্তাকেও ইরানের চাবাহার বন্দর ব্যবহার করতে ইরানের তরফ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ২০১৯ সালের জুনে আজারবাইজান বাংলাদেশকে এ রুটটি ব্যবহারের প্রস্তাব দেয়।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালে দীর্ঘ বহুমুখী এ আইএনএসটিসি রুটের প্রস্তাব করা হয়। বর্তমানে ১৩টি দেশ এ পরিকল্পনায় যুক্ত হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – ভারত, ইরান, রাশিয়া, তুরস্ক, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, আর্মেনিয়া, বেলারুশ, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, ওমান, ইউক্রেন ও সিরিয়া। এছাড়া, বুলগেরিয়া পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে রয়েছে। সূত্র: আরব নিউজ, স্পুটনিক, উইকিপিডিয়া ও অন্যান্য।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে